ঢাকায় পুলিশ হত্যা মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

র‌্যাব বলছে, গত ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের মধ্যে মুরাদ তার অনুসারীদের নিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2023, 08:21 AM
Updated : 28 Nov 2023, 08:21 AM

ঢাকায় গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশের দিন সংঘর্ষের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার মামলায় চট্টগ্রামের এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মুরাদ চৌধুরী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক। বন্দর নগরীর চান্দগাঁও এলাকা থেকে সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, গত ২৮ অক্টোবর সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ সদস্য আমিরুল ইসলাম পারভেজকে হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুরাদ। ঘটনার দিন ছাত্রদল নেতা আমান, যুবদল নেতা জাকির হোসেন জসিম ও মুরাদ তার অনুসারীদের নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকার নয়া পল্টনে গত ২৮ অক্টোবর সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশ চলাকালে কাকরাইলে সংঘর্ষ বাঁধে এবং পরে তা গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের।

সেদিন পুলিশের এক সদস্যকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হামলা হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালেও। পেটানো হয় সাংবাদিকদের। গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়।

পুলিশ হত্যার ঘটনায় ২৯ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাসুক মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরসহ ১৬৪ জনকে আসামি করা হয়।

আসামিদের মধ্যে আরও আছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভী, নিপুণ রায়, আমিনুল হক, হাবিবুন নবী খান, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এস এম জিলানী, শামসুজ্জামান দুদু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, তাবিথ আউয়াল, রফিকুল ইসলাম মাহাতাব, ইকবাল হোসেন শ্যামল, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক, রাশেদ ইকবাল খান, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, কাজী রওনাকুল হক শ্রাবণ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে শনিবার পল্টন থানার কালভার্ট রোডের পূর্বপ্রান্তে বাদীসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বরত ছিলেন। বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ‘হাজার হাজার’ নেতাকর্মী তাদের উপর হামলা করে। ইটপাটকেলের আঘাতে এডিসি (ডিবি-ওয়ারী জোন) ইলিয়াছ হোসেন, কনস্টেবল আমিরুল হকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হন।

সেসময় আমিরুল হক ‘আত্মরক্ষার্থে’ ডিআর টাওয়ারে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে রাস্তার উপর ফেলে এলোপাতাড়ি ইট, লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। তাতে আমিরুল গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। তখন পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমিরুলকে পরে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।