‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীদের দলীয় শৃঙ্খলার কথা মনে করালেন হাছান মাহমুদ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিকল্প (ডামি) প্রার্থী রাখার নির্দেশনা আসার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার হিড়িক পড়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2023, 11:57 AM
Updated : 29 Nov 2023, 11:57 AM

আওয়ামী লীগের পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবশ্যই দলীয় শৃঙ্খলা মাথায় রাখতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।  

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ আসনের (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালি আংশিক) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। 

জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকরা তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা ছাড়াও স্বতন্ত্র হিসেবে অনেকে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন। তাতে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে দলের নির্দেশনা কী?

জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, “নির্বাচনে সবসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল এবং থাকে। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিতও হন। তবে আমাদের দলের যারা পদধারী, তাদেরকে অবশ্যই দলীয় শৃঙ্খলা মাথায় রাখতে হবে।” 

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হওয়া ঠেকাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিকল্প (ডামি) প্রার্থী রাখার নির্দেশনা আসার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার হিড়িক পড়েছে।

সেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তালিকায় দলটির নতুন-পুরনো মুখ যেমন আছে, তেমনই বর্তমান সংসদ সদস্যরাও আছেন, যারা এবার নৌকার টিকেট পাননি। আবার রাজনৈতিক দলের বাইরেও অনেকে প্রার্থী হতে চাইছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, দেশে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সারাদেশে এখন নির্বাচনী আমেজ বইছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মনোনয়ন ঘোষণা করেছে, এবং তাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে।

“৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এর বাইরেও অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ৭ জানুয়ারি যথাসময়ে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা যেটা তৈরি হয়েছে, এতে বিএনপি হতাশ হয়ে গেছে।” 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো নির্দলীয় সরকারের অধীনে আন্দোলনে রয়েছে। 

হাছান মাহমুদ বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, এগুলোর মাধ্যমে আসলে পুরো দেশ আজকে নির্বাচনী আমেজের মধ্যে আছে। এই ডামাডোলের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন বর্জনের যে ডাক সেটি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে।” 

বিএনপি ‘দুয়েক দিনের মধ্যে’ সরকার ফেলে দেওয়ার যে কথা বলছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান বলেন, “বিএনপি এখন দৈব-দুর্বিপাকের ওপর নির্ভর করছে। দেশে তারা এ ধরনের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরকে হাস্যকর করে তুলেছে। সরকারের পতন নিয়ে তো বহুদিন ধরে বিএনপি দিনক্ষণ ঘোষণা করে।

“বিএনপি বলে, অমুক দিন সরকারের পতন হবে। গতবছর ৩০ ডিসেম্বর দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল। এবছর ২৮ অক্টোবরও দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল। এভাবে ঘোষণাটাই একটি সন্ত্রাসী ঘোষণা। এমন যে তারা কোন দৈব-দুর্বিপাকের উপর নির্ভর করে বলে, অমুক দিন কিছু একটা হবে। যেমনটা, অমুকদিন বৃষ্টি হবে, অমুকদিন বজ্রপাত হবে, অমুক সময়ে সাইক্লোন হবে। বিএনপির ঘোষণাও ঠিক সেইরকম।” 

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচনে ‘বিদেশি থাবার’ যে কথা বলেছেন, সে প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, “আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়েও বিদেশি থাবা ছিল, আমাদের উন্নয়ন-অগ্রগতির সময়েও বিদেশি থাবা আছে।

“এখন যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তখনও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি চক্র নানা ষড়যন্ত্র করছে। তবে, আমাদের সাথে সবার সম্পর্ক চমৎকার।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের নীতি হচ্ছে, কারো সাথেই বৈরিতা নয়, সবার সাথে মিত্রতা। সেই নীতি নিয়েই আমরা কাজ করি। আমাদের সাথে সমস্ত দেশের ভালো সম্পর্ক। আমরা আমাদের সমস্ত উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা নিয়ে দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যেতে চাই।”

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চিশতি, বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ সেলিম ও বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার উপস্থিত ছিলেন এ সময়।

এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে কয়েকজন দলীয় নেতাকে সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী হাছান মাহমুদ।