‘সহকর্মীর কথায়’ চসিকের গাড়িতে আগুন দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী: পুলিশ

জসীম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যে যুবকের সঙ্গে তিনি আগুন লাগাতে গিয়েছিলেন, তার বিস্তারিত পরিচয় তিনি জানেন না। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো
Published : 8 Dec 2023, 07:36 AM
Updated : 8 Dec 2023, 07:36 AM

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

নগরীর মেহেদীবাগ এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে মো. সেলিম ওরফে জসীম (৩২) নামের এ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

নগরীর পাহাড়তলী ঝর্ণাপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসীম নিজেকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের সক্রিয় কর্মী দাবি করে বলেছেন অবরোধ ‘সফল’ করতে তার এক রাজনৈতিক সহকর্মীর কথায় আগুন দিয়েছেন। 

শুক্রবার নগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার আলী হোসেন জানান, গত ৩ ডিসেম্বর রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় জসীম তার এক রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে মোটর সাইকেলে করে গিয়ে রাস্তার পাশে রাখা সিটি করপোরেশনের ট্রাকটিতে আগুন দিয়েছিলেন। 

নিজেকে আড়াল করতে জসীম গায়ে চাদর জড়িয়ে মুখে মাস্ক লাগিয়ে গিয়েছিলেন আগুন দিতে। 

গোয়েন্দা কর্মকর্তা আলী হোসেন বলেন, “এলাকার আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জসীমকে শনাক্ত করা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই নিজেদের আড়াল করার চেষ্টায় ছিল তারা।

“বৃহস্পতিবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মেহেদীবাগ এলাকা থেকে জসীমকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে তাকে যে যুবক মোটর সাইকেল করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল সেই যুবককে খোঁজা হচ্ছে।”

উপ-কমিশনার আলী হোসেন জানান, সামনে জসীমের এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে পদ পেতে এ ধরনের নাশকতা করেছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও তার বিরুদ্ধে পাহাড়তলী ও হালিশহর থানায় দুইটি নাশকতার মামলা হয়েছিল।   

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কালো চাদর ও মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি ঘটনার দিন সিটি করপোরেশনের ট্রাকটির আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। একপর্যায়ে কিছু একটা ট্রাকে ছিটিয়ে দিয়ে পরক্ষণেই ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে ট্রাকের চালকের আসনে ফেলে দেন। আগুন জ্বলে উঠার সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি মোটর সাইকেলে করে চলে যান। 

এদিকে জসীম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যে যুবকের সঙ্গে তিনি আগুন লাগাতে গিয়েছিলেন, তার বিস্তারিত পরিচয় তিনি জানেন না। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। 

জসীম বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই যুবক তাকে ফোন করে অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে আগুন দেয়ার কথা জানান। তার কথায় রাজী হয়ে তিনি আগুন দিতে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে চলে ওই যুবক তাকে হাত খরচের জন্য ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন।

জসীম আরও জানান, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণার কর্যক্রম স্থগিত আছে। সামনে সে কমিটি ঘোষণা করা হবে। ওই কমিটিতে তিনি পদ প্রত্যাশী।

গত ৩ ডিসেম্বর রাতে নগরীর তিনটি স্থানে যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ডবলমুরিং থানার এলাকা ছাড়ও খুলশী থানার দামপাড়া বাস কাউন্টার এলাকায় ঢাকাগামী রিলাক্স পরিবহনের একটি বাসে মশাল ছুঁড়ে মেরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বাসে আগুন না লাগলেও চালক দগ্ধ হয়েছিলেন। 

একই দিন আকবর শাহ মোড়ে যাত্রীবেশে উঠে ৪ নম্বর রুটের একটি সিটি সার্ভিস বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। 

দামপাড়া এলাকায় বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় গত ৪ ডিসেম্বর হৃদয়, নাছির ওরফে শরীফ ও রায়হান (২৪) নামে ছাত্রদলের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। 

পরদিন সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছিল, নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম তুহিনের নির্দেশে খুলশী থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নুর আলম সোহাগের নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।  

নাশকতা করতে পারলে তার কমিটিতে হৃদয়কে সহ-সভাপতির পদ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা সোহাগ।