Published : 28 May 2026, 12:35 PM
আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বু্দ্ধ হয়ে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রামের প্রথম ও প্রধান জামাত হয়।
তাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী।
এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
গত দুদিন বৃষ্টি হলেও ঈদের দিন সকালে চট্টগ্রাম নগরীতে বৃষ্টি বিপত্তি ঘটায়নি। আলো ঝলমলে রোদের সকালে নির্বিঘ্নে ঈদগাহে উপস্থিত হয় মানুষ।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের জামাতে যোগ দিতে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে সমবেত হন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিল উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সিটি মেয়র ও জাতীয় পার্টির নেতা মাহদুদুল ইসলাম চৌধুরী, মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়মান আলম শেঠসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা প্রধান জামাতে অংশ নেন।
ঈদের নামাজ শেষে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত হয়।
নামাজ শেষে একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সবাই।

নামাজ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “ঈদ উল আযহার শিক্ষা হল ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করা। এর প্রকৃত তাৎপর্য হল নিজের লোভ-লালসা ত্যাগ করে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
“ঈদের চেতনাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে ত্যাগের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে কাজ করতে হবে।”
মেয়র শাহাদাত হোসেন ঈদুল আজহার আত্মত্যাগের শিক্ষাকে সমাজে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আত্মত্যাগের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার যে শিক্ষা ঈদ আমাদের দেয়, তা সমাজে বাস্তবায়ন করতে হবে।

“ঈদ শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সকলের জন্য ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা। আমাদের সকলের উচিত এই পবিত্র দিনে সবার সাথে মিলেমিশে আনন্দ উদযাপন করা। সবার প্রতি সহানুভূতি ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রদর্শন করা।”
তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ এই চেতনাকে ধারণ করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ব–এটাই হোক আমাদের শপথ। আসুন আমরা সবাই মিলে ঈদের এই পবিত্র দিনকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।”

নামাজ শেষে যার যার বাসা-বাড়িতে ফিরে পশু কোরবানি শুরু করেন সবাই।
ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।