Published : 15 Dec 2025, 09:42 PM
বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের বিতর্কিত মন্তব্যের পর সমালোচনার মুখে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সেখানে দাবি করা হয়েছে, বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় অধ্যাপক শামীমের বক্তব্যের কিছু ‘খণ্ডিত অংশ’ প্রচার করার মাধ্যমে কতিপয় গণমাধ্যম ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’।
সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শামীম খানের বক্তব্যের বিষয়ে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসন আয়োজিত ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অধ্যাপক শামীম খান বলেন, পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিষয়টি ‘অবন্তর’।
তার এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। শামীম খানের পদত্যাগ দাবিতে রোববার দুপুরে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৪ ডিসেম্বর আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপকের বক্তব্য এবং অন্যান্য বক্তার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান আলোচনা পেশ করেন।
“অ্যাকাডেমিক ডিসকাশনের অংশ হিসেবে তার বক্তব্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে মনে করেছেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তি কাটানোর জন্য সঠিক তথ্য সবাই জানার জন্য স্বাধীন নিরপেক্ষ একটি তদন্ত কমিশনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন তিনি।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) মনে করেন, ১৯৭২ সালে গুমের শিকার জহির রায়হানকে খুঁজে পেলে সঠিক তথ্য পাওয়া যেত। মানুষ যাতে সঠিক ইতিহাস জানতে না পারেন, সেজন্যই জহির রায়হানকে গুম করা হয়। এজন্য এর সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার, যাতে জাতির মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।”
“আলোচনা সভায় শামীম উদ্দিন খান বলেছিলেন, সত্যিকার ইতিহাস জানতে হলে ইতিহাসের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আমাদের গবেষণা করতে হবে। গবেষণা ছাড়া আমরা কোনো বিষয়ে সমাধানে যেতে পারব না। আমরা জানি, ১৪ ডিসেম্বর আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে।
“এসময় তিনি মুজিবনগর সরকারের ভ্রাম্যমান রাষ্ট্রদূত, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল কাদিরের লেখা ‘দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীন’ বই থেকে বলেন, ‘৬ ডিসেম্বর থেকে দৌঁড়ের উপর থাকা পাকিস্তানি বাহিনী ১৪ তারিখ এতগুলো লোকের বাসায় গিয়ে গিয়ে বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
“এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনির ‘স্টার নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন ‘পাকিস্তানিরা আমার বাবাকে হত্যা করেনি’ এসব রেফারেন্সের ভিত্তিতে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, যখন পাকিস্তানি বাহিনী বুঝতে পারল, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে, তখন তারা জীবনহানির ভয়ে ছিল, সেই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। (এমনটা বলতে গিয়ে তিনি সেটাকে অবান্তর শব্দ ব্যবহার করেছেন)।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় পূর্ণ আস্থাশীল ও বিশ্বাসী। সংবাদ পরিবেশন করার সময় যাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি।
প্রোভিসির বিতর্কিত বক্তব্য: চবির প্রশাসনিক ভবনে তালা
পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, মানতেই রাজি নন চবি উপ-উপাচার্য শামীম