গেটম্যান ছিলেন কি না, এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ

রেল পুলিশ বলছে, গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে রিমান্ডে না নেওয়ায় তাকে সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 06:43 PM
Updated : 1 August 2022, 06:43 PM

মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান ছিলেন কি না এবং ক্রসিং বার দেওয়া ছিল কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী, ট্রেন চালকের বক্তব্য এবং গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন সংবাদ এবং গ্রেপ্তার গেটম্যানের বক্তব্য আরও যাচাই করে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানান রেল পুলিশের দায়িত্ব প্রাপ্তরা।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বড় তাকিয়া স্টেশনের আগে খৈয়াছড়া ঝর্ণা ক্রসিং এলাকায় পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসে চট্টগ্রামমুখী মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহত ও ৬ জন আহত হন।

ওই সময় গেটম্যান সাদ্দাম হোসেন ক্রসিংয়ে ছিলেন না বলে স্থানীয় দোকানিরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান। ঘটনার পর তাকে পাওয়া না গেলেও বিকাল ৫টার দিকে রেল ক্রসিং এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

পরে ওই দুর্ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করে। এতে্ ৩০৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়।

এই মামলায় শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে কোনো রিমান্ড আবেদন করেনি রেল পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রেল পুলিশের এসআই খোরশেদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। রিমান্ডে নেওয়া হয়নি তাই আমরা গেটম্যানকে সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও পারিনি।

“তবে গেটম্যান সাদ্দাম হোসেন দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলছেন, তিনি ঘটনার সময় ক্রসিংয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই ট্রেনের চালক মিডিয়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট বলেছেন, গেটম্যান ছিল না এবং ক্রসিং বার ফেলা হয়নি।”

ঘটনার দিন প্রভাতী ট্রেনের চালক জহিরুল হক খান চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “বড় তাকিয়া স্টেশনের আউটার সিগন্যালের পরে একটা গেট আছে। ওই গেটটা দূর থেকে গাছপালার জন্য বেরিয়ার পড়ছে কি না পড়ছে দেখা যায় না।

“আমরা যখন কাছাকাছি আসছি গাড়ি দেখি নাই। ওই গাড়িটা হঠাৎ করে ঢুকে গেছে। ঢুকে যাওয়ার ২-৩ সেকেন্ডের মধ্যে লাইগা গেছে। ওই মুহূর্তে আমার কিছু করার ছিল না।”

তিনি বলেছিলেন, “গাড়িটা এত স্পিডে ঢুকেছে। কোনো রেললাইন পার হতে গেলে আস্তে ধীরে গাড়ি ওঠে। ওইটা এত স্পিডে ঢুকছে আর আমরাও কাছাকাছি আইসা গেছি। ইঞ্জিনের যে বাফার সেটা গাড়ির মাঝখানে ঢুকে আটকে গেছে গা।”

“এই রুটটা আনঅথরাইজড, এই লেভেল ক্রসিংয়ের অনুমতি ছিল না। বেরিয়ার পড়া থাকলে গাড়ি উঠত না। এমন সময় উঠছে এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সংঘর্ষ হয়ে গেছে। গেটম্যান যদি থাকত এ ঘটনা ঘটত না।”

ট্রেনের ব্রেক কষলে পুরো থামতে ৪৪০ গজ প্রয়োজন জানিয়ে চালক জহিরুল বলেছিলেন, “এটা এত কাছাকাছি ছিল ফুল ব্রেক দেয়ার পরও লাগছে। যেহেতু গেটম্যান ছিল না, মাইক্রো চালকের ডানে বায়ে দেখে লাইনে ওঠা দরকার ছিল।”

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া মাইক্রোবাসের যাত্রী ইমনও শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ক্রসিংয়ে বার ফেলা ছিল না এবং গেটম্যান সেখানে ছিলেন না।

মামলার আইও এসআই খোরশেদ আলম বলেন, “ট্রেন চালক, প্রত্যক্ষদর্শী, মিডিয়ার সংবাদসহ পারিপার্শ্বিক তদন্তে বোঝা যাচ্ছে গেটম্যান সেখানে ছিল না। কিন্তু আমরা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে পারি না।

“এটি আইনি প্রক্রিয়া। যেহেতু মামলা হয়েছে তাই তথ্য প্রমাণ যোগাড়ের বিষয়ও আছে। এছাড়া তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সব বিষয় জেনে তারপর মন্তব্য করতে পারব।”

রেল পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “প্রয়োজনে পরেও আমরা রিমান্ড চাইতে পারি। অথবা আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পারেন। তার আগে কোনটা সঠিক তা বলা সম্ভব না।”

কী ঘটেছিল খৈয়াছড়া রেল ক্রসিংয়ে?জানতে চাইলে রেল পুলিশের এসপি মো. হাসান চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনার সময় গেটম্যান ক্রসিংয়ে ছিলেন না, এরকমটা অনেকেই বলছে। আপনাদের নিজস্ব অনুসন্ধানেও তো এ বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন।

“আমরাও তেমন নানা রকম তথ্য পাচ্ছি। তাই এখনই তদন্তাধীন বিষয়ে কিছু বলাটা ঠিক হবে না। গেটম্যান ক্রসিংয়ে বার ফেলেননি এমন বক্তব্যও এসেছে। সবই যাচাই করা হচ্ছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা বলেছিলেন, গেটম্যান সাদ্দাম ক্রসিংয়ের দুপাশে বার ফেলে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান।

আর খৈয়াছড়া ঝর্ণা রুটের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের দাবি, রেল ক্রসিংটিতে বার ফেলা ছিল না। কেউ কেউ বলেছেন, মাইক্রোবাসের চালক পূর্ব পাশের ক্রসিং বারটি তুলে রেললাইনে উঠে পড়েন।

দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। দুটি তদন্ত কমিটিরই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

আরও খবর

Also Read: কী ঘটেছিল খৈয়াছড়া রেল ক্রসিংয়ে?

Also Read: মিরসরাই দুর্ঘটনা: গেটম্যান কোথায় ছিলেন?

Also Read: খৈয়াছড়ায় ১১ মৃত্যু: রেলের গেটম্যানকে আসামি করে মামলা

Also Read: খৈয়াছড়া ক্রসিংয়ের গেটম্যান সাদ্দাম কারাগারে

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক