মিরসরাই দুর্ঘটনা: গেটম্যান কোথায় ছিলেন?

লোহার বার ফেলে রেখে দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান সাদ্দাম নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 04:41 PM
Updated : 29 July 2022, 04:41 PM

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ জনের প্রাণহানির পর খৈয়াছড়া ঝর্ণা লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যানের উপস্থিত থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

গেটম্যানের বরাতে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, মহানগর প্রভাতী বড়তাকিয়া স্টেশনের প্রবেশের সময় ক্রসিংয়ের লোহার বার ফেলা ছিল, ওই বার সরিয়ে মাইক্রোবাস লাইনে উঠে পড়াতেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গেটম্যান লোহার বার ফেলে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রামমুখী আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতী বড়তাকিয়া স্টেশনে প্রবেশের আগে রেলক্রসিংয়ে লাইনে উঠে পড়া মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে তাতে থাকা ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত ছয়জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

হতাহতরা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে মাইক্রোবাসে করে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে গিয়েছিলেন। দুপুরে ফেরার পথে তারা ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন।

মাইক্রোবাসটিতে চালক-সহকারীসহ মোট ১৮ জন ছিলেন। হতাহতদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, খৈয়াছড়া ঝর্ণা ক্রসিং গেইটে দুইজন অস্থায়ী ভিত্তিতে গেটম্যান হিসেবে কাজ করতেন। একজন সকালে এবং অপরজন বিকাল বেলা ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করতেন। সাদ্দাম হোসেন শুক্রবার দুপুরের দায়িত্বে ছিলেন।

ক্রসিংয়ের পূর্বপাশ দিয়ে খৈয়াছড়া ঝর্ণার দিকে যেতে হয়। বিপরীতে পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাওয়া যায়। গ্রামীণ পাড়ার ভেতর দিয়ে চলা এ রাস্তা দিয়ে সাধারণত রিকশা, অটোরিকশা ও মাইক্রাবাস চলাচল করে থাকে।

দুর্ঘটনার পর পূর্ব রেলের জিএম জাহাঙ্গীর হোসেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি গেটম্যানের সাথে কথা বলেছি। দুর্ঘটনার সময় সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে আমাদের কাছে দাবি করেছে।

“খৈয়াছড়া ক্রসিংয়ে দুটি গেট ছিল। গেট দুটির লোহার বারও ফেলা ছিল। ওইসময়ে চট্টগ্রাম থেকে একটা ট্রেন আগে ক্রস করেছে। পরে আরেকটা ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। পরের ট্রেনটি আসার আগেই পূর্ব পাশ থেকে একটি মাইক্রোবাসের লোকজন জোর করে বার তুলে দিয়ে লাইনে উঠে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটে বলে গেটম্যান আমাদের বলেছে।”

তবে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের এসপি হাসান চৌধুরী বলেন, “দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান ছিল কি ছিল না তা আমরা এখনও নিশ্চিত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

ক্রসিংয়ের পাশের পান দোকানি মফিজুল হক দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান উপস্থিত না থাকলেও লোহার বারটি ফেলানো ছিল। গেটম্যান ওইসময় নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক বলেন, “মাইক্রোবাস চালক লোহার বার তুলে লাইনে উঠে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।”

দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গেটম্যান সাদ্দামকে আটক করেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক