Published : 04 Dec 2025, 08:27 PM
চট্টগ্রামে একটি চুরির মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ দুই চোরকে ধরেছে, যারা কিছু দিন পরপর বন্দরনগরীতে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং ঘুরে ঘুরে বাসা শনাক্ত করে সুযোগ বুঝে চুরি করে আবার চলে যেতেন নিজের এলাকায়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- আব্দুল আলিম শাকিল (২৯) ও ইয়াসিন আরাফাত শাকিল (২৫)। তাদের মধ্যে আলিমকে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে এবং আরাফাতকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে নগর পুলিশ। চোরাই সোনা হেফাজতে রাখার অভিযোগে এক নারীসহ দুই জনকে এবং তাদের বহনকারী এক রিকশাচালককেও গ্রেপ্তার করা হয়।
হালিশহর থানার এসআই মোশারফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হালিশহর গোল্ডেন আবাসিক এলাকার কে-ব্লকের একটি বাসায় গত ৫ নভেম্বর চুরি হয়।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়, গভীর রাতে চোরের দল গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ দুই লাখ ১১ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
এসআই মোশারফ বলেন, মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ গত সপ্তাহে হালিশহর এলাকা থেকে আব্দুল আলিম শাকিলকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যে নোয়াখালীতে তার নানা শ্বশুড়ের বাড়ি থেকে এবং স্থানীয় এক দোকানীর কাছ থেকে কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
আদালতের অনুমতি নিয়ে আলিমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর চুরির সঙ্গে ইয়াসিন আরাফাত শাকিলের জড়িত থাকার তথ্য পায় পুলিশ।
বুধবার হবিগঞ্জ থেকে আরাফাতকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে এনে ডবলমুরিং থানা এলাকায় তার চাচির বাসা থেকে আরও কিছু স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
সব মিলিয়ে সাড়ে সাত ভরির বেশি স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করার কথা জানান এসআই মোশারফ।
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার দুই জনের মূল পেশা চুরি। তারা নোয়াখালী ও হবিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম আসে চুরির জন্য। বিভিন্ন স্থানে তারা ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নিয়ে নগরীতে ঘুরে বেড়ায়। ঘুরে ঘুরে ঠিক করে কোন বাড়িতে চুরি করা যায়। সুযোগ বুঝে চুরি করে আবার চলে যায়।”
গত ৫ নভেম্বর হালিশহর এলাকার ওই বাসায় চুরি করে পরদিন তারা নিজেদের বাড়িতে চলে যায়। আলিম তার স্বর্ণালঙ্কারগুলো নোয়াখালীতে তার নানা শ্বশুড়ের বাড়িতে নিয়ে এক মুদি দোকানী ও স্বর্ণের দোকানে বন্ধক দিয়ে টাকা ধার নেন। আর আরাফাত তার ভাগের অলঙ্কারগুলো নগরীর ডবলমুরিং এলাকায় তার চাচীর কাছে রেখে হবিগঞ্জে নিজের বাড়িতে চলে যান।
গ্রেপ্তার দুই জনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি চুরির মামলা আছে বলে জানান এসআই মোশারফ।