১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৩১ জুলাই

মঙ্গলবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, নগর আওয়ামী লীগের সব ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন ঈদুল আজহার পর হবে। নগর কমিটির সম্মেলনের আগেই এসব সম্মেলন শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৩১ জুলাই

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jun 2023, 04:54 PM

Updated : 27 Jun 2023, 05:54 PM

অবশেষে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই হবে এই সম্মেলন।

মঙ্গলবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সম্মেলনের এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কেন্দ্রের নির্দেশনা জুলাইয়ের মধ্যে সম্মেলন করতে হবে। ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম-১০ আসনে উপনির্বাচন। ৩১ জুলাই নগরীর কিং অব চিটাগাং কনভেনশন হলে সম্মেলনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

“সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। কারা আসবেন সেটা নেত্রী ঠিক করবেন।”

মঙ্গলবারের সভায় নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এর আগে একাধিকার কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও নানা কারণে তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

মঙ্গলবারের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নগর আওয়ামী লীগের যেসব ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি তা ঈদুল আযহার পর হবে। নগর কমিটির সম্মেলনের আগেই এসব সম্মেলন শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ আছে এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে। তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের সহায়তায় সাংগঠনিক কাঠামোগুলো গঠনের কার্যক্রম অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে।

“আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে গঠনতান্ত্রিক নীতিমালা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলোর তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী গঠন করা এবং এ পর্যন্ত যে কমিটিগুলো গঠন হয়েছে তা গঠনতান্ত্রিক নীতি মোতাবেক এবং সর্বসম্মতভাবেই হয়েছে।”

আ জ ম নাছির বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ থানা, ওয়ার্ড ও যে কয়েকটি ইউনিট সম্মেলন সমাপ্ত হয়নি সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটি ওইসব সাংগঠনিক ওয়ার্ডে কমিটি গঠনে সরাসরি উদ্যোগ নেবে।

“এ ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে তা যদি পালন করা না হয় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আগেও চেয়েছিলাম এবং এখনো চাই তৃণমূল স্তরের কমিটিগুলো সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হউক। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, স্থানীয় নেতৃত্বের অসহযোগিতায় সম্মেলন বিলম্বিত হয়েছে।”

যে সমস্ত কমিটিগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তারা যেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মূল্যায়ন করেন এবং তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করেন সেই নির্দেশনাও দেন নাছির।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর কমিটির সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, সুনীল কুমার সরকার, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এম. জহিরুল আলম দোভাষ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবদুচ সালাম, নোমান আল মাহমুদ এমপি, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মসিউর রহমান চৌধুরী, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, হাজী মো. হোসেন প্রমুখ।

নগরীতে থাকলেও সভায় যাননি সিটি মেয়র ও নগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন হজ্ব ব্রত পালনে বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন।

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কমিটিগুলোর শেষ সম্মেলন হয়েছিল দেড় থেকে দুই দশক আগে।

মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি গঠিত হয় ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর। তবে সেবার সম্মেলন হয়নি, কমিটিরি ঘোষণা এসেছিল ঢাকা থেকে। তার আগে সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৯ সালে।

২০১৭ সালে মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুর পর কমিটির সহ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী পান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব। কিন্তু সম্মেলন আর হয়নি।

এরপর গতবছর ১ অক্টোবর, ৪ ডিসেম্বর ও ১৮ ডিসেম্বর তিন দফায় নগর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করলেও তা হয়নি।

এরমধ্যে নগর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, তৃণমূলের সম্মেলন আয়োজনসহ নানা ইস্যুতে দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিতে কেন্দ্রের নেতাদের একাধিকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুই পক্ষের নেতারা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাথেও দেখা করেছেন।

এরপর গত মার্চে ওয়ার্ড সম্মেলন শুরু হলেও দুই পক্ষের নেতারা বিরোধে জড়ান। সবশেষ মে ও জুন মাসে তৃণমূলের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ও থানার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেগুলোতে সব পক্ষের নেতাদের দেখা গেছে।

পুরানো খবর:

ওয়ার্ড সম্মেলনের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগে বিভেদও জেগে উঠল

পুরানো খবর:

ক্লাস চলাকালে স্কুলের মাঠে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন

পুরানো খবর:

চট্টগ্রামের নেতাদের ‘একযোগে কাজের নির্দেশ’

পুরানো খবর:

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঝুলে গেল

পুরানো খবর:

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সম্মেলন স্থগিত, নগর সম্মেলন অনিশ্চয়তায়

পুরানো খবর:

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১ অক্টোবর: হানিফ

পুরানো খবর:

চট্টগ্রামে তৃণমূলে সম্মেলন শেষ হল না কেন, ক্ষোভ স্বপনের

পুরানো খবর:

কাউন্সিল করতে গিয়ে বিভক্ত চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ

পুরানো খবর:

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ইউনিট সম্মেলন দেখভালে ১৫ দল

পুরানো খবর:

শাখা সম্মেলন নিয়ে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতাদের মতভেদ