Published : 15 Apr 2026, 10:48 PM
চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স-এমএসএফের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে এক অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এমএসএফের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসন মিলস এবং কান্ট্রি চিফ ফর হেলথ কারমেনজা গালভেজ।
এমএসএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এই সমঝোতার মাধ্যমে ডেঙ্গুজনিত ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও কার্যকর সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
“চট্টগ্রামে ডেঙ্গু বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। সারা বছর সংক্রমণ এবং ঘন ঘন প্রাদুর্ভাবের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
এমএসএফের মতে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে সারাদেশে ১৭০৫ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
তারা বলছে, ডেঙ্গুর প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রোগীর ব্যবস্থাপনা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে এমএসএফ আমস্টারডামের উপ-চিকিৎসা পরিচালক এবং এমএসএফ ইউকে এর ম্যানসন ইউনিটের পরিচালক ড. ম্যাথিউ কোলডিরন বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ডেঙ্গু একটি ‘জলবায়ু সংবেদনশীল’ রোগ।
এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে এমন একটি উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব শুরু করতে পেরে তারা আনন্দিত। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
মেয়র শাহাদাত হোসেন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে এমএসএফকে পাশে পেয়ে আনন্দিত। ডেঙ্গু বর্তমানে নগরবাসীর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“এই পরিস্থিতিতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেরশন সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অংশীদারিত্বের আওতায় সিটি করপোরেশন ও এমএসএফ একটি ছয় স্তম্ভভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
এর মধ্যে রয়েছে- মশা নিয়ন্ত্রণ জোরদার, রোগ শনাক্তকরণের জন্য নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা বাড়ানো, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা উন্নয়ন, ডেঙ্গু বিষয়ক গবেষণা এবং সচেতনতা ও নীতিগত কার্যক্রম জোরদার করা।