Published : 23 Oct 2024, 02:41 PM
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহমীরপুর এলাকায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার ভোর ৪টার দিকে দক্ষিণ শাহমীরপুরের সুন্দরী পাড়া এলাকায় হাতির আক্রমণে মো. আকবর (৪২) নামের ওই ব্যক্তি মারা যান।
এ নিয়ে গত দেড় মাসে হাতির আক্রমণে চারজনের মৃত্যু হল।
বড় উঠান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাছির মিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাত ৪টার সময় হাতির দলটি স্থানীয় একটি মুদি দোকানে হামলা করে সেখানে থাকা চাল খেয়ে ফেলে। ওই দোকান মালিক টেলিফোনে খবর দিলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেদিকে যাচ্ছিলেন আকবর।
“এসময় হাতির দলটির সামনে পড়ে গেলে আকবরকে পায়ে পিষ্ট করে এবং পরে দাঁত দিয়ে খুচিয়ে মারে হাতিরা। দলে চারটি হাতি ছিল।”
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে মানববন্ধন করে হাতির আক্রমণ ঠেকানোর দাবি জানায়।
যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে তার পাশেই পাহাড়। সুন্দীর পাড়ার ওই এলাকা দিয়ে হাতির দলটি প্রায়ই চলাচল করে বলে স্থানীয়রা জানান।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুরে হাতির আক্রমণে মোহাম্মদ সৈয়দ ওরফে লুতু মিয়া (৫৫) নামের এক কৃষক নিহত হন।
তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় মো. কাশেম ওরফে দুলাল (৬০) এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোশাল তালুকদার বাড়ি এলাকায় রেহানা বেগম (৩৮) হাতির আক্রমণে মারা যান।
গত ছয় বছর ধরে চট্টগ্রামের দেয়াং পাহাড়, হ্রদ ও বন ঘেরা জায়গায় বিচরণ করছে হাতির দলটি। তাদের হামলায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, যাচ্ছে মানুষের প্রাণ। কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন জুড়ে তাদের বিচরণ।
ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা হাতিগুলো সরিয়ে নিতে বহুবার বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। তবে বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের করিডোরে (চলাচলের পথ) কোনো বাধা হাতি সহ্য করতে পারে না। আর পূর্ব পুরুষের আবাসস্থল হওয়ায় ওই হাতির দলটি এ এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় নিহত, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়মিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ।
দেয়াং পাহাড় ঘেরা ওই এলাকায় ২০১২-১৩ সাল থেকেই হাতির আনাগোনা বেশি। আগেও হাতির আসা-যাওয়া ছিল, তবে তখন তুলনামূলক কম ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের ভাষ্য।
২০১৮ সালের শেষ দিকে ওই হাতির দলটি স্থায়ীভাবে কেইপিজেড এলাকায় বসবাস শুরু করে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাতির আক্রমণে ওই এলাকায় মানুষের প্রথম মৃত্যু হয়।
কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান এবং আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ, বারখাইন, বটতলী ও বারশত; এই পাঁচ ইউনিয়নে গত ৬ বছর ধরে হাতির দলটি ‘তা্ণ্ডব’ চালাচ্ছে।
শুরুতে এই দলে দুটি বড় এবং একটি ছোট হাতি ছিল। মাঝে মাঝে আরো একটি বড় আকারের হাতিকে এ দলের সাথে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে সেটি ‘লেজ কাটা’ হাতি নামে পরিচিত।
সেপ্টেম্বর মাসে হাতির আক্রমণে তিনজন মারা যাওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় লোকালয় পাহারায় স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন।
পাশাপাশি হাতি চলাচলের করিডর ‘নিরাপদ রাখা’ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটিও করার সিদ্ধান্তও হয়েছিল জেলা প্রশাসনের সভাপতিত্বে হওয়া ওই সভায়।
হাতি ঠেকাতে লোকালয় পাহারা দেবে স্বেচ্ছাসেবক