হাতি ঠেকাতে লোকালয় পাহারা দেবে স্বেচ্ছাসেবক
১৮-২০ জনের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করবে।
দুই সপ্তাহে হাতির আক্রমণে তিনজনের মৃত্যুর পর লোকালয় পাহারায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে এক সভায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়।
স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি হাতির চলাচলের জায়গা (করিডোর) নিরাপদ রাখার বিষয়েও করণীয় ঠিক করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
সভায় সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সভাপতিত্বে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সভায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়।
“এরমধ্যে আছে নিহতদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া। পাশাপাশি বন বিভাগও ক্ষতিপূরণ দিবে।”
ইউএনও মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, “পাশাপাশি লোকালয়ে মানুষকে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ভলান্টিয়ার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৮-২০ জনের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করবে। স্বেচ্ছাসেবক দেবে বন বিভাগ। আর লজিস্টিক্স দেবে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ।
“তারা বিভিন্ন এলাকায় হাতির আগমন বিষয়ে এলাকাবাসীকে সর্তক করবে।”
হাতি চলাচলের করিডোর ‘নিরাপদ রাখার’ বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “হাতি যেহেতু নির্দিষ্ট করিডোরে চলাচল করে তাই তাতে বাধা আসলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সে কারণে করিডোর নিরাপদ রাখতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“এছাড়াও করিডোর নিরাপদ রাখার পন্থা নির্ধারণের জন্য শিগগিরই স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে ওয়াকশর্প করা হবে। তাতে আসা সুপারিশ নিয়ে কাজ করা হবে। সবগুলো বিষয় সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটিও করা হবে।”
সবশেষ সোমবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় মো. কাশেম ওরফে দুলাল (৬০) এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোশাল তালুকদার বাড়ি এলাকায় রেহানা বেগম (৩৮) হাতির আক্রমণে মারা যান।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুরে হাতির আক্রমণে মোহাম্মদ সৈয়দ ওরফে লুতু মিয়া (৫৫) নামের এক কৃষক মারা যান।
গত ছয় বছর ধরে চট্টগ্রামের পাহাড়, হ্রদ ও বন ঘেরা জায়গায় বিচরণ হাতির দলটির। তাদের হামলায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, যাচ্ছে মানুষের প্রাণ। কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন জুড়ে তাদের বিচরণ।
ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা হাতিগুলো সরিয়ে নিতে বহুবার বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। নিহত, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়মিত ক্ষতিপূরণও দিচ্ছে বন বিভাগ।
তবে বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের করিডোরে (চলাচলের পথ) কোনো বাধা হাতি সহ্য করতে পারে না। আর পূর্ব পুরুষের আবাসস্থল হওয়ায় ওই হাতির দলটি এ এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে না।
দেয়াং পাহাড় ঘেরা ওই এলাকায় ২০১২-১৩ সাল থেকেই হাতির আনাগোনা বেশি। আগেও হাতির আসা-যাওয়া ছিল, তবে তখন তুলনামূলক কম ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের ভাষ্য।
২০১৮ সালের শেষ দিকে হাতির দলি স্থায়ীভাবে কেইপিজেড এলাকায় বসবাস শুরু করে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাতির আক্রমণে ওই এলাকায় মানুষের প্রথম মৃত্যু হয়।
কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান এবং আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ, বারখাইন, বটতলী ও বারশত; এই পাঁচ ইউনিয়নে গত ৬ বছর ধরে হাতির দলটি ‘তাণ্ডব’ চালাচ্ছে।
শুরুতে এই দলে দুটি বড় এবং একটি ছোট হাতি ছিল। মাঝে মাঝে আরো একটি বড় আকারের হাতিকে এ দলের সাথে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে সেটি ‘লেজ কাটা’ হাতি নামে পরিচিত।
