Published : 27 Aug 2025, 09:16 PM
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ ও হালিশহরের দুটি বর্জ্য ফেলার স্থানকে আধুনিক ‘ল্যান্ডফিলে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা বলেছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার হালিশহরের আনন্দবাজার এলাকার ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ড পরিদর্শনে আসা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতে মেয়র এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে বায়েজিদ ও হালিশহরের ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডকে ধাপে ধাপে আধুনিক ল্যান্ডফিলে রূপান্তর করা হবে।”
“এতে একদিকে পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
চট্টগ্রামে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া বিকল্প নেই। উন্নত নগর গড়তে হলে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি।”
হালিশহর ও বায়েজিদের ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক ল্যান্ডফিলে রূপান্তরের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল ভোগ করবেন।”
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগে ‘সার্কুলার ইকোনমি পাইলট প্রজেক্ট’ প্রস্তাব করছে। থ্রি আর (রিডিউন, রিইউজ, রিসাইকল) নীতির ভিত্তিতে এ প্রকল্প ‘ল্যান্ডফিল রিক্লেমেশনের’ টেকসই সমাধান দেবে।
প্রতিনিধি দলটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট তারানুম বিনতে নাসিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি লিমিটেড ল্যান্ডফিল আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছে।
বুধবার মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাত করা প্রতিনিধি দলে তারানুম বিনতে নাসিম ছাড়াও ছিলেন চংওয়াং পার্ক, নোফিল তামিম পার্ক, আন সুংগেউন, হান ডং গু, লি সাং হুন ও জং হোয়ান ইল।
অন্যদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে বন্দর নগরীর বর্জ্য হালিশহরের আনন্দবাজার ও বায়েজিদের আরেফিন নগরের দুটি খোলা স্থানে ফেলা হয়।
আনন্দবাজারে ১৫ একর এবং আরেফিন নগরে ১৯ একর জমি আছে সিটি করপোরেশনের। তবে দুটি ল্যান্ডফিলেই জমি এখন প্রায় শেষের পথে।
২০২২ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ২১০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার ৬৮ শতাংশই গৃহস্থালির। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশন, আর বাকি ২০ শতাংশ পড়ে যায় নগরীর নালা, খাল ও নদীতে।