Published : 14 Dec 2021, 10:48 PM
মঙ্গলবার বিকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পাহাড়তলী বধ্যভূমি প্রাঙ্গনে ‘বধ্যভূমি রক্ষা পরিষদ’ আয়োজিত সমাবেশ থেকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বধ্যভূমি রক্ষা পরিষদের সহ সভাপতি নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজি বলেন, “এই বধ্যভূমি রক্ষায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে আন্দোলন করছি। বারবার প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করছি।
“পত্রিকায় সংবাদে দেখলাম, জেলা প্রশাসক বলেছেন আগামী মার্চ- এপ্রিলের মধ্যে অধিগ্রহণ শুরু হবে। আজ এসে দেখি পিছনে টিন দিয়ে নতুন করে ঘেরাও দেওয়া হয়েছে। তার মানে নতুন করে দখলের চেষ্টা চলছে।”
অধিগ্রহণে কত টাকা লাগে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখানে যে জমি এর কতটুকু সরকারের আর কতটুকু ব্যক্তিগত জমি?
“দেশের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিকে দখলে রেখে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা কীভাবে পালন করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন অবিলম্বে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেন এই বধ্যভূমির জমি অধিগ্রহণ করা হয়।”
জেলা প্রশাসন বলছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া অর্থ বরাদ্দ মিলতে আরও চার মাস সময় লাগতে পারে। তারপরই শুরু হবে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১১ মার্চে দেওয়া এক আদেশে এক দশমিক ৭৫ একর জমির সম্পূর্ণ অংশ পাহাড়তলী বধ্যভূমি বলে রায় দেওয়া হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ফয়ে’স লেক বধ্যভূমিতে ফুল দেওয়ার পর প্রদীপ প্রজ্বালন করে খেলাঘরের শিশু-কিশোরেরা। ছবি: সুমন বাবু
আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। যেখানে ইউএসটিসি ভবন নির্মাণ করেছে, সেখানেই ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের পর লাশ ফেলে রেখেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।
মঙ্গলবার সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান, অধ্যাপক মো. ইদ্রিস আলী, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি ও বধ্যভূমি রক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হাসান, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, কবি আশীষ সেন, সাইফুদ্দিন চৌধুরী রাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা তমাল চৌধুরী, সংগঠক মোরশেদুল আলম চৌধুরী ও পিপল’স ভয়েস এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আতিকুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বধ্যভূমি রক্ষা পরিষদের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী দিবসে পাহাড়তলী বধ্যভূমি প্রাঙ্গনে একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করে প্রমা আবৃত্তি সংগঠন, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বেলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: