২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৈয়দ আহাম্মদকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে জীবন উৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মৌলভি সৈয়দ আহাম্মদকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি উঠেছে চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2021, 09:09 PM

Updated : 02 Aug 2022, 06:12 PM

বুধবার মৌলভি সৈয়দ আহাম্মদের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম-বৃহত্তর চট্টগ্রাম’ আয়োজিত আলোচনা সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সভায় প্রধান আলোচক সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার বলেন, “১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে যে ক’জন সাহসী বীর সন্তান জীবন দিয়েছেন, তাদের মধ্যে একাত্তরের গেরিলা কমান্ডার মৌলভী সৈয়দ আহাম্মদ অন্যতম।

“মহান মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় বীর ও পঁচাত্তরের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ মৌলভি সৈয়দকে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পদক প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।”

সভায় প্রধান অতিথি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল বলেন, “বস্তুত বঙ্গবন্ধুপ্রেমী এই অসীম সাহসী বীরই হলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী এবং প্রথম শহীদ। উনার স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।”

এদিকে সকালে বাঁশখালী উপজেলায় মৌলভি সৈয়দের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।

Image
মৌলভি সৈয়দ আহাম্মদ

মৌলভি সৈয়দ আহাম্মদ

পঁচাত্তর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রতিশোধ নিতে নেমেছিলেন সৈয়দ আহাম্মদ, যাতে তার নেতৃত্বে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীও যুক্ত হয়েছিলেন।

কমান্ডো গ্রুপ তৈরি করে লিবিয়া গিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হত্যার মাধ্যমে বদলা নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।

১৯৭৬ সালের মার্চে ভারতে পাড়ি দিয়েছিলেন সৈয়দ আহাম্মদ। ১৯৭৭ সালের মাঝামাঝি সৈয়দসহ কয়েকজনকে ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। সেখান থেকে আটকের পর ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে ১৯৭৭ সালের ১১ অগাস্ট তাকে হত্যা করা হয়।

হেলিকপ্টারে মৌলভি সৈয়দের লাশ বাঁশখালীর বাড়িতে নিয়ে দাফন করেছিল সামরিক সরকার। কবরে এক মাস পুলিশ প্রহরাও ছিল।

সৈয়দ আহাম্মদ ১৯৬৮ সালে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম শহর গেরিলাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম শহরে দুর্ধষ কিছু অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে (১৯৭২-৭৩ সালে) তিনি আওয়ামী যুবলীগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি হন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সম্পাদক হন।

বঙ্গবন্ধুর জন্য প্রাণ দেওয়া সৈয়দ আহাম্মদকে স্মরণ