মেঘনায় ট্রলারডুবি: উদ্ধার হয়নি বাবা ও ৩ ছেলে-মেয়ে
কুমিল্লার হোমনা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৩ যাত্রী নিয়ে নদীতে ট্রলারটি ডুবে যায় বলে জানায় নৌ-পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজের একদিনেও সন্ধান পাওয়া যায়নি একই পরিবারের চারজনের; যারা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টার পর্যন্ত কারো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম।
আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ঝোড়ো বাতাসে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সামনে নদীতে ১৩ যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলারটি ডুবে যায়।
এ ঘটনায় রায়সা খাতুন (৪০) নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হন; যারা সম্পর্কে বাবা-মেয়ে ও দুই ছেলে।
নিখোঁজরা হলেন- হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্ধী গ্রামের অটোরিকশা চালক হেলাল উদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজীব হোসেন (২৪), ছেলে সামিন হোসেন (৫) ও মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭)।
লাশ উদ্ধার হওয়া রায়সা খাতুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের উজানপর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তিনি নিখোঁজ হেলালের ফুফু।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল মালেক বলেন, যেখানে ট্রলারডুবি হয়েছে সেখানে প্রচণ্ড স্রোত। ঘটনার রাতেই স্থগিত করা উদ্ধার অভিযান শুক্রবার সকাল থেকে আবার শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে ট্রলারটি উদ্ধার করা গেলেও চারজন মানুষকে এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে আত্মীয় সাজিয়া আক্তারের বিয়েতে যোগ দিতে ১৩ জন একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বিয়ের জন্য দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল।
পথে হঠাৎ মেঘনা নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে প্রবল ঢেউ সৃষ্টি হয়ে ট্রলারে পানি উঠতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিরিন বেগম বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা ট্রলারে করে রওনা হয়েছিলেন। পথে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার এসে নয়জনকে উদ্ধার করে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে দিনভর অভিযান চালিয়েও কারো দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করেছেন।
আরও পড়ুন:
