দুই ত্রিপুরা কিশোরীকে হত্যায় আসামির ফাঁসির রায়

২০১৮ সালের ১৮ মে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল মহাদেবপুর ত্রিপুরা পাড়ায় দুই কিশোরীকে হত্যা করা হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2023, 10:20 AM
Updated : 25 Jan 2023, 10:20 AM

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পল্লীতে দুই কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় এক আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলীম উল্ল্যাহ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আবুল হোসেন সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়ার মো. ইসমাইলের ছেলে। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে এ আদালতের পিপি আশোক কুমার দাশ জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৩০২ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় অপর আসামি ওমর হায়াত মানিককে খালাস দিয়েছে আদালত।

২০১৮ সালের ১৮ মে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল মহাদেবপুর ত্রিপুরা পাড়ার পুলিন ত্রিপুরার মেয়ে সুকলতি ত্রিপুরা এবং সুমন ত্রিপুরার মেয়ে সবিরানী ত্রিপুরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় মামলা হলে পরদিন আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জেলার পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা সে সময় জানিয়েছিলেন, বখাটে আবুল হোসেন বিভিন্ন সময় ত্রিপুরা পল্লীতে গিয়ে সুকলতিকে উত্ত্যক্ত করতেন। সুকলতিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন সে।

ওই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ ডেকে আবুল হোসেনকে ভর্ৎসনা করা হয়। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীদের নিয়ে ত্রিপুরা পল্লীতে গিয়ে সুকলতিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এ সময় পাশের বাড়ির সবিরানী ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয়। পরে লাশ দুটি নাইলনের দড়ি দিয়ে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে খুনিরা।

এ ঘটনায় সবিরানী ত্রিপুরার বাবা সুমন ত্রিপুরা বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলার তিন আসামির মধ্যে রাজীব নামের একজন পরে মারা যাওয়ায় তার নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রবিন ত্রিপুরা আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ঘটনার বর্ণনা দেন।

আসামি আবুল হোসেনও ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক