Published : 16 Jul 2026, 12:20 AM
শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আরেকবার আলোচনায় এসেছে দেশের বড় দুই শহর— ঢাকা ও চট্টগ্রাম।
শুধু বৃষ্টির পানিতে তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় শহর দুটির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জলাবদ্ধতার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এ পরিস্থিতির পুরোটাই ‘মানবসৃষ্ট’।
তারা বলছেন, ‘মানবসৃষ্ট’ কারণেই বৃষ্টির পানি শহরের আশপাশের নদ-নদী বা খাল-বিলে মিশতে পারছে না; পানির ‘ব্যাকফ্লো’ হচ্ছে।
মানবসৃষ্ট কারণ হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাশয় ভরাট করে অবকাঠামো গড়ে তোলা, অপরিকল্পিত স্লুইস গেট বসানো, নাগরিকদের নানা অসচেতনতা কিংবা ড্রেনের সঙ্গে খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো বিষয় সামনে এনেছেন তারা।

ঢাকায় কী সমস্যা
গত ৭ জুলাই ঢাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ঝরে গেল শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত। রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়।
এই অতি ভারি বৃষ্টিতে যাত্রাবাড়ী, কুতুবখালী, শনির আখড়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যায়।
একই সময়ে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পুরানা পল্টন কালভার্ট সড়কে হাঁটুপানি জমে আশপাশের ছোট দোকানগুলোতেও পানি ঢুকে যায়।
মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে টিকাটুলি মোড়, আরামবাগ, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, রাজারবাগ, নয়াপল্টন ও কাকরাইলের বিভিন্ন সড়ক এবং অলিগলিতেও জলাবদ্ধতা দেখা যায়। একই পরিস্থিতি তৈরি হয় দিলকুশা ও মতিঝিলের বাণিজ্যিক এলাকাতেও। এমনকি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় চত্বরেও পানি জমে।
বৃষ্টির পানিতে খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত সড়ক, মহাখালীর দক্ষিণপাড়ার প্রধান সড়ক এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশও পানিতে তলিয়ে ছিল।
বনানী, গুলশান, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেইটসহ ঢাকার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

ঢাকা শহরের এই জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে অনেকেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাকে সামনে আনেন। কিন্তু কোনো কোনো সংস্থা এ অভিযোগ মানতে রাজি নয়।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলামের মতে, সমন্বয়হীনতার অভিযোগটি ‘পুরোপুরি’ ঠিক নয়।
কারণ হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সরকারের কার্যবিধি অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার আইনি দায়িত্ব ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের।”
তিনি বলেন, “আগে এ দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার ছিল। পরে তা দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার মহাপরিল্পনা বাস্তবায়নে রাজউক, ওয়াসা ও অন্যান্য সংস্থা প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে পারে।”
ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে রাজউকের এই কর্মকর্তা বলেন, “ঢাকায় নগরায়ণের মাত্রা এত বেড়েছে যে বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার সুযোগ প্রায় নেই। ফলে অধিকাংশ পানি সরাসরি সড়কসংলগ্ন ড্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।”
ঢাকায় নির্মাণকাজের পদ্ধতিকেও একটা সমস্যা হিসেবে দেখেন আশরাফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “অনেক নির্মাণকাজে সড়কের ওপরই ইট, বালি ও সিমেন্ট মিশ্রণ করা হয়। বৃষ্টির সময় এসব উপকরণ ড্রেনে চলে গিয়ে ড্রেনের গভীরতা ও পানি বহনের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাপ সামলাতে পারে না।”




পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘পরিকল্পনার অভাব নেই’ মন্তব্য করে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, “সমস্যা বাস্তবায়নে নতুন পরিকল্পনা করার চেয়ে কোন সংস্থা কোন কাজ করবে, সেটি নির্ধারণ করা বেশি জরুরি।"
তার মতে, কোনো একটি সংস্থাকে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দিয়ে দুই-তিন বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী রাজউক, সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কাজ ভাগ করে দিলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঢাকায় জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথাও উঠেছে। তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা এর সঙ্গে একমত নন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারের মতে, সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার ‘প্রধান কারণ’ ছিল পানির 'ব্যাকফ্লো'।
‘ব্যাকফ্লো’ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "বুড়িগঙ্গার পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার বেশি ছিল। আমাদের যেসব খাল বুড়িগঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত, সেগুলো ‘ওভারফ্লাডেড’ হয়ে যায়।
“ড্রেনের পানি খাল হয়ে নদীতে যাওয়ার কথা। কিন্তু নদীর পানি উল্টো ‘ব্যাকফ্লো’ করায় ড্রেনের পানি আর নিষ্কাশিত হতে পারেনি। এটাই ছিল প্রধান কারণ।"
ডিএসসিসির এই কর্মকর্তার দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতি শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদী সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও তৈরি হয়। এসব নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে।
“শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে দায়ী করলে বিষয়টির ঠিক ব্যাখ্যা হবে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কিছু ঘাটতি থাকতে পারে।”


জলাবদ্ধতা বাড়ার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতার দায়ও দেখেন মাহাবুবুর রহমান তালুকদার।
তিনি বলেন, পান্থপথের একটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করতে গিয়ে লেপ, তোশক, কাঁথা ও বালিশ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।
"আমরা যদি ড্রেনে লেপ-তোশক, কাঁথা-বালিশ, প্লাস্টিক বর্জ্য কিংবা নির্মাণসামগ্রী বর্জ্য ফেলি, তাহলে ড্রেন ব্লক হওয়া ছাড়া আর কী হবে?"
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খানের বক্তব্য হলো, ঢাকার সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা মূলত ‘মানবসৃষ্ট’।
তার মতে, বৃষ্টিকে দায়ী করার সুযোগ কম, বরং কয়েক দশক ধরে নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা ও জলাধার ধ্বংসের ফলেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "৩০ থেকে ৫০ বছর আগে ঢাকার যে প্রাকৃতিক ভূসংস্থান বা টপোগ্রাফি ছিল, আমরা সেটাই নষ্ট করে ফেলেছি। শুধু খাল দখল করা হয়নি, খালের স্বাভাবিক প্রবাহও নষ্ট করা হয়েছে।
“পাশাপাশি জলাশয়, জলাধার ও পুকুরের মতো পানি ধারণের জায়গা ধ্বংস করা হয়েছে। এখন পানি নামবে কোথায়?"
আদিল মুহাম্মদ বলেন, “শহরের কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থারও পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই। অনেক ড্রেনের পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলোর সঙ্গে অবশিষ্ট প্রাকৃতিক খালের কার্যকর সংযোগও নেই।”
অনেক ড্রেন বর্তমানে সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পানি নিষ্কাশন করতে পারছে বলে মনে করেন তিনি।
আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে তার বক্তব্য হলো, “দায় আছে, তবে সেটি ২০ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি নয়। বাকি ৭০ শতাংশ সমস্যার জন্য দায়ী খাল দখল, জলাশয় ভরাট, পানি ধারণ এলাকা ধ্বংস এবং প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংযোগ নষ্ট হয়ে যাওয়া।"
চট্টগ্রাম ডুবল কেন
চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে অসম্পূর্ণ প্রকল্প ও স্লুইস গেটের সুফল পুরোপুরি না মেলার কথা সামনে এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্লেষকরা।

এবার শহরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, মোহরা, ষোলশহর, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, আগ্রাবাদের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, হালিশহর ও পতেঙ্গার বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট রূপ নেয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে নগরীর ৩৬টি খাল নিয়ে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পে বিভিন্ন খালের মুখে স্লুইস গেট স্থাপন হয়েছে ৩৯টি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকল্পে কর্ণফুলী মোহনা থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত অংশে বসেছে ২১টি স্লুইস গেট। আর সিডিএর আরেক প্রকল্পে শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ প্রকল্পে স্লুইস গেট বসছে ১২টি।
সোমবার পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় এসব স্লুইস গেইটের প্রসঙ্গ তোলেন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
তিনি বলেন, “স্লুইস গেইটগুলোর মাপ পানি অপসারণের উপযোগী কিনা, তা যাচাই করতে হবে। স্লুইস গেট করলাম, কিন্তু পানি সরানোর সক্ষমতা নাই, তাহলে জনগণ সুফল পাবে না।”
ওই সভায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং-পাহাড়তলি) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
তিনি বলেন, “বারুনিঘাট ও ২৬ নম্বর ঘুরে দুটো খাল দেখলাম। সবকিছু ব্লক হয়ে আছে। ১৬ নম্বর স্লুইস গেইট দুটোই (ছোট ও বড়) বন্ধ।”
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “সিডিএ যে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেটিতে স্লুইস গেটগুলো নির্মাণের আগেই আমরা বলেছিলাম, ক্যাচমেন্ট এরিয়ার পানির পরিমাণের সঙ্গে গেট কতটুকু চওড়া হবে, তা সমন্বয় করতে। সেটা করা হয়নি।
“প্রকল্পে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে প্রস্তাবিত কোন রিটেনশন পন্ড রাখা হয়নি। শহরের সব বিল ও নিচু জমি ভরাট করে আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “৩৬টি খাল নিয়ে প্রকল্প হয়েছে। যতটুকু কাজ হয়েছে, তার সুফল এবার মিলেছে। কিন্তু এই প্রকল্পের বাইরে রয়ে গেছে নগরীর আরো প্রায় ৭০ শতাংশ খাল এবং ৬০ শতাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সেগুলো সব দখলমুক্ত করে সংস্কার করতে না পারলে এসব প্রকল্পের সুফল মিলবে না।”

চলতি বছর এ নিয়ে তৃতীয়বার বড় রকমের জলাবদ্ধতা দেখল চট্টগ্রাম নগরীর মানুষ।
এর আগে গেল এপ্রিলে হালকা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয় নগরীর প্রবর্তক মোড় ও মুরাদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়।
এর সপ্তাহ খানেক পরে আরেক দফা জলাবদ্ধতা তৈরি হয় বন্দর নগরীর প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, রহমতগঞ্জ, সিরাজুদ্দৌলা সড়ক ও রামপুরা এলাকায়। সেদিন বৃষ্টি ঝরেছিল মাত্র দেড় ঘণ্টা।
কদিন পরপর জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার কারণ হিসেবে খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন নগরীর বাসিন্দারা।
নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় মূল নালাটি সড়কের চেয়ে নিচু হওয়ায় এবং পানির পরিমাণের তুলনায় অপ্রশস্ত হওয়ায় সেখান জলাবদ্ধতা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ।
এবারের পরিস্থিতি বর্ণনা করে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন, "কমার্স কলেজ রোডের নালাটি সড়কের তুলনায় উঁচু। ফলে সড়কের পানি নালায় যেতে পারে না। আবার নালা তুলনামূলক অপ্রশস্ত হওয়ায় পানি সহজে খালে নামতে পারে না। এ কারণে সড়কে কোমরসমান পানি জমে যায়।"

কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইশতিয়াক হোসেন বলেন, "হিজরা খালের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় খাল পাড়ে প্রটেকশন ওয়াল হয়নি। তাই আবাসিক এলকার বাড়িঘরের নিচতলা ডুবে ছিল কয়েক দিন।"
এ পরিস্থিতির জন্য সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখছেন নগরীর কোনো কোনো বাসিন্দা।
পতেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. আজম বলেন, "এখানে আগে কখনো পানি উঠেনি। স্লুইচ গেটগুলো বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারেনি। পানি ওঠার পর স্লুইচ গেট খোলা এবং কয়েকটা খালে থাকা বাঁধ কাটা হয়েছে। বর্ষা শুরুর আগে এসব করলে আমরা এত বিপদে পড়তাম না।"
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “৩৬টি খালের কাজ শেষ হলে সেগুলোর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি এবং নগরীর বাকি ৪০টি খাল নিয়ে আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।
“জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর, আধুনিক ও টেকসই করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ‘ওয়াটার লগিং ডিপার্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা আছে। এই বিভাগ রেগুলেটর, পাম্প, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও খালগুলো সার্বক্ষণিক তদারকি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দায়িত্ব পালন করবে।”
আর পড়ুন-
চট্টগ্রামে বন্যায় ১১ মৃত্যু, পানিবন্দি সাড়ে ৬ লাখ মানুষ
বৃষ্টি ও বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫১, পানিবন্দি পৌনে ৩ লাখ পরিবার
চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, তলিয়েছে বহু এলাকা
ঢাকায় ২৭ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি, তীব্রতা কমবে মঙ্গলবার থেকে