Published : 07 Sep 2024, 05:35 PM
চট্টগ্রামের পটিয়ায় সোনার দোকানের এক কর্মচারীকে বাস থেকে নামিয়ে যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৬৫ ভরি সোনা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোনার মালিক পটিয়া থানায় গত বুধবার একটি মামলা করার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।এরপর ওই যুবদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সবশেষ শনিবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের তরফে অভিযুক্ত পটিয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মামুনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুবদলের নেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না। সংগঠনের কেউ শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী ও জনগণের বিরুদ্ধে কোন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত ২৭ অগাস্ট বেলা দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস সড়কের কচুয়াই ফারুকী পাড়া নামক স্থানে সোনা ছিনিয়ে নেয়ার এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও এলাকার রিদি গোল্ড ফ্যাশন নামের একটি স্বর্ণালংকারের দোকানের মালিক রুবেল দাশ বাদি হয়ে বুধবার পটিয়া থানায় মামলা করেন।
মামলায় আসামি করা হয়- পটিয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মামুন, তার সহযোগী যুবদল কর্মী মো. মনির এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুজনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, “২৭ আগস্ট রুবেল দাশের দোকানের কর্মচারী রূপন দাশ ৬৫ ভরি সোনার গয়না নিয়ে পূরবী পরিবহনের বাসে করে চট্টগ্রাম নগরীর দিকে যাচ্ছিলেন।
“সেদিন বেলা দেড়টার দিকে গাড়িটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস ফারুকী পাড়া এলাকা অতিক্রমের সময় পূরবী পরিবহনের সামনে একটি মোটরসাইকেলে দুজন এবং একটি মাইক্রোবাসে করে দুজনসহ মোট চারজন লোক এসে বাসটি থামিয়ে ফেলে।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এজাহারে বলা হয়, “বাস থামলে ওই চারজন বাসে উঠে রূপন দাশের আসনের সামনে গিয়ে বলতে থাকে, রূপন ছাত্রলীগের কর্মী। চার থেকে পাঁচজনকে খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে। এ অভিযোগ করার পরপরই রূপনকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
“তারপর টেনে রূপনকে বাস থেকে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে। চলন্ত মাইক্রেবাসে গলায় ছুরি ধরে রূপনের ব্যাগে থাকা ৬৫ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি মোবাইল ফোন, দুই ভরি ওজনের রূপার ব্রেসলেট এবং নগদ ৫৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে চোখ বাঁধা অবস্থায় রূপনকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয়।”
ঘটনার বিষয়ে পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাস থামিয়ে দোকান কর্মচারীর কাছ থেকে ৬৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি।
“জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ছিনিয়ে নেয়া স্বর্ণালংকার এখনো উদ্ধার করা হয়নি।”
পুলিশ কর্মকর্তা আবদুর রহিম সরকার বলেন, “ঘটনায় জড়িত পটিয়া পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি দক্ষিণ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে আজ আমাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শাহজাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পটিয়া পৌরসভা যুব দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মামুন বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপরাধে জড়িত হয়েছে।
“৬৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়া ও এ ঘটনায় মামলা হওয়ার বিষয়টি দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে মামুনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।”
দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি শাহজাহান বলেন, “বহিষ্কারের বিষয়টি উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে আমাকে কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু আগেই এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তাই আমাদের করা অভিযোগটি ওই মামলায় সংযুক্ত করা হবে বলে ওসি জানিয়েছেন।
“আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় এবং জনগণের বিরুদ্ধে কোনো কিছু এই সময়ে করা যাবে না। বরং আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে জনগণের কাছে যেতে হবে।”