Published : 09 Jul 2025, 10:25 PM
চট্টগ্রামের হালিশহরে নালার পানি থেকে উদ্ধার করা শিশুটি হাসপাতালে মারা গেছে।
হুমাইরা আক্তার নামের ৩ বছরের মেয়েটির বাবার নাম আবদুর রহমান। হালিশহরের আনন্দপুর এলাকায় তাদের বাসা, আর গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়।
বুধবার দুপুরে আনন্দপুর তাসফিয়া গেইট এলাকায় শিশুটি নালায় পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্ত্যব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে হালিশহর থানার এসআই ইমন দত্ত জানান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “শিশুটির মা ওই এলাকায় একটি কারখানায় চাকরি করেন। মায়ের অজান্তে শিশুটি খেলতে খেলতে সড়কে নেমে আসে এবং যে ভবনে শিশুটির মা কাজ করেন তার সাথে লাগোয়া নালায় পড়ে পানিতে তলিয়ে যায়।”
দুদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ওই এলাকার সড়কে পানি জমে ছিল। পানির কারণে সড়ক নালা আলাদা করে বোঝা যাচ্ছিল না। ভবনের পাশে লাগোয়া ছোট নালাটি বড় নালার সাথে যুক্ত হয়েছে। শিশুটি ছোট নালায় পড়ে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের লিডার কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিশুটি যেখানে পড়ে গিয়েছিল সেখান থেকে অন্তত ৩০ গজ দূর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে নালায় শিশু পড়ে যাওয়ার খবর শুনে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনও তল্লাশি শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে দূরে আরেকটি নালার স্ল্যাব তুলে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “যে নালায় শিশুটি পড়ে গেছে সেটি ছোট নালা। সার্ভিস ড্রেন, এর মালিকানা সিটি করপোরেশনের না। এমনিতে এ ধরনের ড্রেনে দুর্ঘটনা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নাই। বেশি ছোট হওয়ায় শিশুটি এ নালায় পড়ে গিয়ে তলিয়ে যায়।”
প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তার দাবি, ওই এলাকায় সিটি করপোরেশনের সবগুলো নালায় স্ল্যাব বসানো আছে।
চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন সময়ে নালায় পড়ে শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত কয়েক বছরে।
সবশেষ গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় কাপাসগোলা এলাকায় নালায় রিকশা উল্টে পড়ে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে সাত মাস বয়েসী এক শিশুর মৃত্যু হয়। একদিন পর ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার দূরে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।