১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার: সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে মামলায় আরো দুইজনের সাক্ষ্য

মামলার মোট সাক্ষী ৯৬ জনের মধ্যে এ নিয়ে ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হল।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 04:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় আরো দুই জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ দুইজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। একজন আর্থিক খাতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও অন্যজন ম্যাজিস্ট্রেট।”

আগামী ১৬ অগাস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য করেছে আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হল। মামলার মোট সাক্ষী ৯৬ জন। 

গত ১১ মার্চ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তার আগে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদী দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান। ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ হাসানুল ইসলাম অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

পরে গত ৫ এপ্রিল মামলার বাদী মশিউর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেন। 

মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।

গত বছরের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার ৩১ আসামির মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন। এছাড়া আরো ৭ জনকে অভিযোগপত্রে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি করা হয়।

বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া ৭ জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুদক। অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ব্যাংক ও জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রোটকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএলের চট্টগ্রাম বন্দর শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছিল।

পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করে। নেতিবাচকব প্রস্তাব থাকা স্বত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কোনো ‘যাচাই-বাছাই না করে’ ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে এই অর্থ নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এেই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।