Published : 10 Aug 2025, 01:19 PM
চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় ১২৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
রাউজান থানায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছিম উদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে ঘটনার ১১ দিন শনিবার রাতে মামলাটি করেন।
মামলায় ১২৯ জনের নাম থাকলেও, তাদের কারো রাজনৈতিক পরিচয় সেখানে দেওয়া হয়নি।
রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ২৯ জুলাইয়ের ঘটনায় মারামারি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
“মামলায় ১২৯ জনের নাম থাকলে অজ্ঞাত আরও ১৪০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।"
ওই ঘটনার দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বিকালে নেতাকর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন।
পথে তার গাড়ি বহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আক্রমণকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়ি বহরে হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গোলাম আকবর খন্দোকারের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর ও বেশকিছু মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় গোলাম আকবর খোন্দকারসহ দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জনের আহত হওয়ার খবর আসে। এছাড়া সংঘর্ষে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছিল।
বাদী নাছিম উদ্দিন নিজেও আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে মামলার এজাহারে লিখেছেন।
তিনি লিখেছেন, “নাছিম উদ্দিন তার রাজনৈতিক সহকর্মী প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারতের জন্য চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সাত্তারহাট সেতু পার হওয়ার সাথে সাথে তাদের গাড়ি বহর মহাসড়কে পৌঁছানো মাত্র আসামিরা ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। "
ঘটনার পরপর গোলাম আকবর খোন্দকার এ হামলার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দায়ী করেছিলেন।
তবে মামলায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম না দিয়ে বলা হয়েছে, “রাউজান বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করতে রাউজানের সাবেক এনডিপি গডফাদারের পূর্ব পরিকল্পনা ও নির্দেশে গোলাম আকবর খোন্দকার ও তার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়।”
গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীদের সঙ্গে গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। গত বছরের ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
দুই পক্ষের বিরোধে এক বছরে অন্তত ১০ জন বিএনপি কর্মী খুন হয়েছে বলে স্থানীয় ভাবে প্রচার ও গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
২৯ জুলাইয়ের বিকালে সংঘর্ষের পর রাতেই কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে গিয়াস উদ্দিন কাদেরের পদ স্থগিত করা হয়।
পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ৪ অগাস্ট কমিটি চট্টগ্রামে এসে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন।
এদিকে হামলার ঘটনা নিয়ে পরদিন ঢাকায় নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে দলীয় পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও জানিয়েছেন তিনি।
পুরানো খবর:
রাউজানে সংঘাতে গোলাম আকবর ও গিয়াস কাদেরের অনুসারীরা
হামলা-সংঘর্ষ: চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, গিয়াস কাদেরের পদ স্থগিত