Published : 16 May 2025, 10:17 PM
অধিকার নিশ্চিত করার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হল চট্টগ্রামে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ থেকে।
নিপীড়ন ও অবমাননা বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হল নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে শুক্রবার বিকালে সমতার দাবি নিয়ে ‘মৈত্রী যাত্রায়’ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীর সঙ্গে অংশ নেন পুরুষরা। সঙ্গী হয়েছে শিশুরাও।
সর্বস্তরের নারী সমাজ, চট্টগ্রাম এর ব্যানারে আয়োজিত ‘মৈত্রী যাত্রায়’ ‘নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে’, ‘অব্যাহত নারী নিপীড়ন, অবমাননা, লাঞ্ছনা, ধর্ষণ ও কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে’ স্লোগান লেখা ব্যানার ছিল সামনে। ‘মব সন্ত্রাস বন্ধ কর’, ‘কৃষিতে নারীর স্বীকৃতি চাই’ প্ল্যাকাড ছিল অংশগ্রহণকারীদের হাতে।
নারী কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর নারীর অধিকারের প্রতি ‘অবমাননাকর আক্রমণের’ প্রতিবাদে এবং ‘সমতার দাবিতে’ আয়োজিত সমাবেশে অধ্যাপক জুলেখা আক্তার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে নারীরা ভাইদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। অসংখ্য নারী আহত হয় আন্দোলনে, প্রাণও দেয় নারীরা।
“বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সম্মিলিতভাবে এই লড়াই হলেও ৫ আগস্টের পর আমরা দেখি নারী পুরুষের বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে।
“আমরা দেখি পথে-ঘাটে, লঞ্চে নারীদের মব তৈরি করে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। আমরা দেখি মৌলবাদী গোষ্ঠীকে ঘরে-বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে নারীদের আক্রমণ ও হেনস্তা করার চিত্র।”

শিক্ষক সাবিনা লিনা বলেন, “সম্প্রতি নারী সংস্কার কমিশনের বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে নারী সংস্কার কমিশনের নেত্রীদের প্রকাশ্যে গালিগালাজ করতে দেখি। হেফাজতের যারা নারীদের অবমাননা করেছেন অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কবি সৈকত দে, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী ঋতু পারভী, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের আহবায়ক আসমা আক্তার, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য দয়াসোনা চাকমা, গার্মেন্টস ওর্য়াকাস ইউনিয়নের সংগঠক এ্যানি চৌধুরী, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন রহমান, ছাত্রফ্রট কেন্দ্রীয় স্কুল বিষয়ক সম্পাদক দীপা মজুমদার।
সমাবেশ থেকে ২৩ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে আছে-
>> সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
>> সিডও সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।
>> ৫ অগাস্টের পর হওয়া সকল ধর্ষণ ও নারীর লাঞ্চনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
>> গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
>> গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং ধর্মীয় সভা-সমাবেশ-ওয়াজ মাহফিলে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রদান নিষিদ্ধ করা।
>> প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
>> নারীকে সন্তানের অভিভাবকত্ব প্রদান।
>> গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করা।
>> সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করা।
>> প্রতিবন্ধী-বয়স্ক-বিধবা নারীদের মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা করা, পাহাড় ও সমতলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
>> আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
>> বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর বিশেষ বিধান বাতিল করার দাবিও জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
সমাবেশে প্রতিবাদী নৃত্য পরিবেশন করেন মন্দিরা বিশ্বাস। কবিতা আবৃত্তি করেন মুক্তধারা পাঠাগারের সংগঠক হামিদ উদ্দিন ও উম্মে হাবিবা।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।