Published : 17 Sep 2025, 10:28 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা হাতে করাটা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন।
মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যেহেতু একজন শিক্ষার্থী ৪০টি করে ভোট দেবেন, ফলে হাতে গণনা করাটা অসম্ভব।”
ভর্তি পরীক্ষায় ওএমআর শিট যারা দেখে, সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার খাতা তো মেশিনের সাহায্যে কাটা হয়, সেখানে তো কোনো আস্থার সংকট হয় না। এখানে কেন এটা হবে?”
বুধবার চাকসুর নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অধ্যাপক মনির উদ্দিন।
কমিশন সদস্যরা ‘চাপহীনভাবে’ কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের কোনো ‘এজেন্ডা’ নেই। আমরা ‘কনস্টিটিউশনাল’ দায়িত্ব পালন করছি, যার কারণে কোনো চাপও অনুভব করছি না।”
এ চাকসুতে চার দশক আগে সদস্য পদে প্রার্থী ছিলেন রসায়ন বিভাগের ১৯৮২ ব্যাচের ছাত্র অধ্যাপক মনির।
এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আর চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে পেলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব।
আগামী ডিসেম্বরে অবসরোত্তর ছুটিতে যাবেন অধ্যাপক মনির। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের প্রতি প্রশাসনের বিশেষ দৃষ্টি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “যারা বলছে, তারা ‘ওভারল্যাপ’ করছে। আমার কাজ ও প্রশাসনের কাজ এক না। প্রশাসন তার কাজ করবে, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।”
মনির উদ্দিন জানান, এবারের চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্র হবে বিভিন্ন অনুষদ ভবন। হলগুলোর ভোটার অনুযায়ী অনুষদ ভবনগুলোতে বুথ বসানো হবে।
চাকসুতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ব্রেইলে ভোটের ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন। আবার অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কেন্দ্র করারও পক্ষেও মত দিচ্ছেন কেউ কেউ।
তবে অধ্যাপক মনির বিশ্ববিদ্যলয়ের বাইরে ভোট কেন্দ্র করার বিষয়টি ‘সম্ভব নয়‘ উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের ভোটার তালিকা হবে একটি। ফলে আলাদা কোনো কেন্দ্রে ভোট নেওয়ার সুযোগ নেই।”
ব্রেইলে ভোট নেওয়ার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা যেভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, সেভাবে ভোট দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, এমন ব্যক্তিকে তারা সঙ্গে নিয়ে আসবেন। এজন্য আমরা বলব, সঙ্গে আসা ব্যক্তি যেন অবশ্যই উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী হয়।”