সাবেক মেয়র চট্টগ্রাম-১০ আসনের এ প্রার্থী লড়ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নৌকার মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে।
Published : 04 Jan 2024, 08:29 PM
আগের ঘোষণা অনুযায়ীই রাজনীতিতে নেই এবং এবারের ভোটে জয়ী হলেও স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী এম মনজুর আলম।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অতীতে বিএনপির টিকিটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়া মনজুর আলম এসব কথা বলনে। এসময় তিনি নির্বাচনি ইশতেহারও তুলে ধরেন।
নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি, স্বতন্ত্র থাকতে চাই। আমার ঠিকানা হবে জাতীয় সংসদ।
৭ জানুয়ারির ভোট সুষ্ঠু হবে বলেও আশা সাবেক মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের।
নির্বাচিত হলে সংসদে কী ভূমিকা থাকবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাকে আগে সংসদে যেতে দিন। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমি কারও আজ্ঞাবহ নই। আমি স্বতন্ত্র হিসেবেই সংসদে যাব। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে কথা বলব সংসদে।
সাবেক মেয়র মনজুর ফুলকপি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মহিউদ্দিন বাচ্চু।
ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী ও পাঁচলাইশ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১০ আসনের নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন নয়জন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আওয়ামী ঘরানার হিসেবে পরিচিত হলেও মনজুর ২০১০ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সিটি মেয়র হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন।
২০১৫ সালের মেয়র নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হন। পরে নির্বাচনের মাঝপথে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান। সেবার আওয়ামী লীগের আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছে হেরে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন। তবে রাজনীতি ছাড়লেও জাতীয় শোক দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে সরব ছিলেন।
ভোটে জনগণ তার পাশে আছে দাবি করে তিনি বলেন, বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটে থাকব, সরে যাব না।
কয়েকদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে নৌকা প্রতীকের মহিউদ্দিন বাচ্চু এক এগারোর সময়ে মনজুর আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মনজুর বলেন, আমি দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছি। আপনারা সাংবাদিক ছিলেন। সবাই ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ছিলেন মাঠে। আমার দ্বারা কার ক্ষতি হয়েছে? উনার (মহিউদ্দিন বাচ্চু) কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না সেটা একটু জিজ্ঞাসা করবেন।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের আটটি ওয়ার্ড অবহেলিত, রাস্তা, নালা-নর্দমার উন্নয়ন হয়নি দাবি করে তিনি নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকারের অধীনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের শিশু সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার চালু, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, স্মার্ট বাংলাদেশ রূপান্তরে বেকার ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও চাকুরির ব্যবস্থা করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।
এছাড়া মাতৃসদন হাসপাতাল স্থাপন, আটটি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে অক্সিজেন ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ মোট ২০টি প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি ইশতেহারে তুলে ধরেন মনজুর আলম।