২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু যৌন নিপীড়ন: চট্টগ্রামে মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ দুজনের যাবজ্জীবন

আসামিদের মধ্যে মাকসুদুর রহমান একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন, আর জোবায়ের হোসেন ছিলেন দোকান কর্মচারী।

শিশু যৌন নিপীড়ন: চট্টগ্রামে মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ দুজনের যাবজ্জীবন
চট্টগ্রামের আদালত ভবন ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jan 2025, 03:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:34 AM

চট্টগ্রামে শিশু যৌন নিপীড়নের দুটি মামলায় এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ মোট দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা মঙ্গলবার মামলা দুটির রায় ঘোষণা করেন। 

এরমধ্যে পতেঙ্গা থানার মামলায় মাকসুদুর রহমান নামের এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাকসুদুর রহমান পলাতক। 

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাদ্রাসার শিক্ষার্থী পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলেকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাকসুদুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।” 

দণ্ডিত মাকসুদুর রহমান (২৯) কিশোগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার দেওঘর গ্রামের কেনু মিয়ার ছেলে। ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর পতেঙ্গার একটি মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে ছিলেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর উত্তর পতেঙ্গায় নিজ বাসার কাছে বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে গেম খেলছিল পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি। 

মাকসুদুর রহমান যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, ওই মাদ্রাসারই ছাত্র ছিল শিশুটি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মাকসুদুর ওই শিশুকে তার বড় ভাইয়ের সামনে থেকে ডেকে মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। 

মাকসুদুর তার কক্ষে নিয়ে শিশুটিকে ‘যৌন নিপীড়ন’ করেন– এমন অভিয়োগে পরদিন পতেঙ্গা থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় করা ওই মামলায় মাকসুদুর রহমানের পাশাপাশি যৌন নিপীড়নে সহযোগিতার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মামুনুর রশিদকে আসামি করা হয়। 

তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০২২ সালের ২ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় দেয় আদালত। অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষক মামুনুর রশিদকে খালাস দেওয়া হয়। আর অধ্যক্ষ মাকসুদুর রহমানকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পাঁচলাইশ থানার আরেক মামলার রায়ে জোবায়ের হোসেন (২৭) নামের আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

দণ্ডিত জোবায়ের হোসেনের বাড়ি নোয়াখালীর চরজব্বর থানার পূর্ব চরভাটা এলাকায়। 

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৩ বছর বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জোবায়ের হোসেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

“রায় ঘোষণার সময় জোবায়ের হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।” 

মামলার নথি জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ জুলাই নগরীর পাঁচলাইশ থানার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় ১৩ বছর বয়সী ওই শিশুকে যৌন নিপীড়ন করেন আসামি জোবায়ের। 

জোবায়ের এবং শিশুটি ওই এলাকার একটি দোকানে কাজ করতেন। এ ঘটনায় ওই শিশুটির মা পাঁচলাইশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।   

এ মামলায় ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় দিল।