Published : 16 Apr 2026, 08:52 PM
মাসব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম নগরীতে ৩ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার কথা বলেছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
ছোঁয়াছে রোগ হামের প্রকোপের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি তথ্য দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে এ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।
শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
এবারের কর্মসূচিতে নগরীর সাতটি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন চালু থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না।
বিশেষ করে, বস্তি এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে।
নগরীর লালদীঘির পাড়ে সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
“তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।”
ডা. শাহাদাত বলেন, “ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, মাইকিং ও গণসচেতনতা কার্যক্রম।
“এই কর্মসূচি সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবীসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই আমরা একটি সুস্থ, নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারবো।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) শেখ ফজলে রাব্বী, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. হোসনে আরা, ডা. তপন কুমার, ডা. খাদিজা আহমেদ, ডা. আব্দুল মজিদ শিকদার, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়ক ইমং প্রো চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফাহমিদা বেগম।