সংঘর্ষের পর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
Published : 17 Jul 2024, 04:52 PM
চট্টগ্রামে কোটাবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে; আসামি করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষকে।
এর মধ্যে বুধবার দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় তিনটি এবং খুলশী থানায় একটি মামলা করা হয়। দুটি মামলায় বাদী হয়েছে পুলিশ, বাকি দুটির বাদী আহত দুই ব্যক্তি।
সংঘর্ষের পর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার থানার তিনটি মামলায় হত্যা, দাঙ্গা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, বিস্ফোরণ ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে দুটি মামলার বাদী পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। অন্য মামলাটি করেছেন আহত এক শিক্ষার্থীর মা।”
ওসি সন্তোষ চাকমা বলেন, বিস্ফোরক ও হামলার ঘটনায় করা দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে।
আর দাঙ্গা, হত্যা ও সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার মামলায় আরও অন্তত ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সাহেদ আলী নামে এক ব্যক্তি খুলশী থানায় একজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০/৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
খুলশী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, মামলার এজাহারে যে রমিজের নাম এসেছে, তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে মঙ্গলবারের সহিংসতার পর নগরজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৮৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ।
মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘাতে জড়ায় সরকার দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সংঘাতে দুই কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই জনের প্রাণ গেছে গুলিতে।
নিহতরা হলেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম (২৪), ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমদ শান্ত (২০) এবং অপরজন ফার্নিচার দোকানের শ্রমিক মো. ফারুক।
সংঘর্ষে নিহত শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। আরেক নিহত শিক্ষার্থী শান্তর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও কোটা আন্দোলনকারীরা তাকে নিজেদের কর্মী দাবি করেছে।