২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৯ ঘণ্টায়ও নেভেনি চট্টগ্রাম ইপিজেডের আগুন

আটতলা ভবনের সপ্তম তলায় লাগা আগুন ছড়িয়েছে নিচতলা পর্যন্ত।

৯ ঘণ্টায়ও নেভেনি চট্টগ্রাম ইপিজেডের আগুন
চট্টগ্রাম নগরীর সিইপিজেডে ‘অ্যাডামস ক্যাপ’ নামে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির কারখানার আগুন একে একে ছড়িয়ে পড়ে উপরের দিকের কয়েকটি তলায়। ছবি: সুমন বাবু

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Oct 2025, 12:11 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:29 PM

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল-সিইপিজেড এলাকায় কারখানা ভবনে লাগা আগুন নয় ঘণ্টায়ও নেভেনি। আগুন ছড়িয়েছে ভবনের নিচতলা পর্যন্ত। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ১৯টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। 

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় ভবনে ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক মিন্টু চৌধুরী।

রাত ৯টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির উপরের দু-তিনটি তলার ছাদের সিলিং আগুনে গলে ভেঙে পড়ছে। সবশেষ আট তলা ভবনটির নিচ তলা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়েছে।

ভবন ঘিরে বিকাল থেকে বেশ কিছু উৎসুক মানুষ ভিড় করে আছে। আগুন লাগার পর নির্ধারিত সময়ের আগেই কারখানাটির আশেপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে বলে ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ২টার পর শুরুতে ভবনের সাততলার এক কোণায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এর কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ইপিজেড এলাকায় প্রবেশ করে।

তবে সকাল থেকে ইপিজেডের প্যাসিফিক গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে সিইপিজেডের ভেতর যানজট ছিল। ফলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়।

সিইপিজেডের অন্য একটি কারখানার শ্রমিক নুরুল আবছার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুরুতে সাত তলার এক কোণায় আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে যায়।”

আগুন লাগা ভবনের অদূরে পেনিনসুলা নামের একটি বন্ধ কারখানার ভবন আছে। আর সামনে আল হামিদি এবং ড্রেস অ্যান্ড ব্যাগ নামের দুটি কারখানা আছে। তবে সেসব ভবন অক্ষত আছে।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কে ওই ভবনটিতে আগুন লাগে। ভবনটিতে অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জিহং মেডিকেল কোম্পানি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান আছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনটির আটতলা খালি। সাততলায় অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদাম। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

অ্যাডামস ক্যাপে টাওয়েল ও ক্যাপ এবং জিহং মেডিকেল সার্জিকেল গাউনসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভবনটির একটি ফ্লোরে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি।”

ভবনে আগুন লাগার সময় দুপুরের খাবারের বিরতি থাকায় কারখানার শ্রমিকরা বেশিরভাগ সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে জানান তিনি।

ভবনে কোনো শ্রমিক নেই বলে কারখানার কর্তৃপক্ষের বরাতে ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা জানান।

বিকালে ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া বলেন, “আটতলা ভবনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির প্রতিষ্ঠানের সপ্তম তলায় আগুন লাগে। পরবর্তীতে তা ছয়তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ১৫টি ইউনিট কাজ শুরু করে।” 

চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখনো পর্যন্ত প্রাণহানি বা আহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বিকাল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে নৌবাহিনীর দল যোগ দিয়েছে। নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটার ইউনিট কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস শুরু থেকেই আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছে।

এ ছাড়া সিইপিজেডে নিয়মিত টহল দেওয়া সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কারখানাটিতে ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা নিরাপদে কারখানা ভবন থেকে বেরিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আসার পর থেকে সবরকম চেষ্টা করেছি। আগুন যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।”