Published : 26 Jan 2026, 02:20 PM
যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ তা বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে খাদ্য বিভাগের সাইলো জেটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন গমের চালান বাংলাদেশে পৌঁছার পর এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, “বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আজকের এই চালান আমাদের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্কের এক মাইলফলক।
“গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউ এস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের মধ্যে স্বাক্ষরিত এমওইউয়ের পর বাংলাদেশ ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গম চাষীদের অষ্টম বৃহত্তম মার্কেটে পরিণত হয়েছে; যা দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

রাষ্ট্রদূত বলেন, “মার্কিন গম কেনা আমেরিকান কৃষকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও একটি বিজয়। বছরব্যাপী ক্রয়সীমার মধ্যে পুষ্টিকর খাবার প্রাপ্তি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা জানি।”
যুক্তরাষ্ট্রের কালামা বন্দর থেকে ৫৭ হাজার ২০৩ টন গম নিয়ে এমভি ক্লিপার ইসাডোরা জাহাজ গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে খাদ্য বিভাগের সাইলো জেটিতে সোমবার দুটি লাইটারেজ জাহাজে ৫ হাজার ৪০০ টন গম খালাস শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, “বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে গত বছর জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি এমওইউ সাক্ষর হয় পাঁচ বছর মেয়াদী। এর আওতায় প্রতি বছর ৭ লাখ টন গম আমদানি করা হবে। এ পর্যন্ত যেসব গম পেয়েছি, সেই মার্কিন গমের মান খুবই ভালো। এসব গমের প্রোটিন কনটেন্ট প্রায় ১৪ শতাংশ।

“ভবিষতে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমরা আরো গম আমদানি করব। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শুল্ক হ্রাসের কারণে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মনিরুজ্জামান।