Published : 23 Mar 2026, 10:34 AM
গাছের গায়ে আর ডালপালায় ঝুলছে থোকা থোকা ফল, দেখতে খানিকটা কালো আঙুরের মত, স্বাদে টক-মিষ্টি রসালো।
চট্টগ্রামের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাষ করা এ ফলটির নাম জাবুতিকাবা। ব্রাজিলিয়ান এ ফলটি বাজারে পাওয়া যায় না। দেশের মাটিতে ফলন ও চাষ উপযোগী করা যায় কিনা, সেজন্যই পরীক্ষামূলকভাবে এর চাষ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা বলছেন, ফলটি আয়রন, ভিটামিন সি ও এনথোসাইনিং সমৃদ্ধ। ফল ধরে বছরে তিনবার। যে সময়ে দেশে ফলের উৎপাদন হয় না, সেই সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত জাবুতিকাবার উৎপাদন হবে। দেশের পুষ্টিসমৃদ্ধ ফলের চাহিদা পূরণও করবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুরে হর্টিকালচার সেন্টার, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা কৃষি উদ্যানসহ দেশের কয়েকটি স্থানে জাবুতিকাবার গাছ দেখা যায়। তবে তা ব্যাপক আকারে কোথাও চাষ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০২১ সালে পরীক্ষামূলক ভাবে এ গাছের চারা লাগানো হয়েছিল। গত বছরের মার্চ মাস থেকে ফল ধরা শুরু হয়েছে।

“দেশের আরও কয়েকটি জেলায় এ ফলের গাছ দেখা যায়। আবার অনেকেই চারা সংগ্রহ করে লাগিয়েছে। কোন ধরনের আবহাওয়া ও মাটিতে এ গাছ বেড়ে উঠবে এবং ফলন ভালো হবে, সে নিয়ে এখনো কোনো গবেষণা হয়নি।”
মনিরুজ্জামান বলেন, “মূলত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলটি দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে বাণিজ্যিকভাবে উৎপদন করা যাবে কিনা, সেটা নিয়ে গবেষণা চলছে।”
তিন ধরনের জাতের চারা গাছের ওপর গবেষণা হচ্ছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে। প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে। কোন জাতের চারার গাছে কেমন ফলন হচ্ছে, আকার ও স্বাদে কেমন হবে, এসব বিষয় গবেষণার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, উঁচু জায়গায় যেখানে পানি জমে না এবং বেলে-দোয়াঁশ মাটির জমিতে এ গাছ ভালো হবে।
“মার্চ মাসে গাছটিতে অনেক ফলন হয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করে আমাদের পরীক্ষাগারে ফলটির পুষ্টিগুণ, কতদিন সংরক্ষণ করা যাবে, একটি গাছে কী পরিমাণ ফলন হতে পারে, গাছে কোন মাসে কী পরিমাণ ফলন হয়, এসব ফল থেকে বীজ উৎপন্ন হবে কিনা- এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা চলছে।”
চলতি বছরের শেষের দিকে গবেষণার ফলাফল নিয়ে সিদ্ধান্তে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন এ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “গবেষণার ফলাফল আমরা জাতীয় বীজ বোর্ডে (এনএসবি) পাঠাব। সেখানকার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এসে পরীক্ষার ফলাফল যাচাইবাছাই করবেন। তারা সম্মতি দিলে চারার নামকরণ করে কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্যে চারা তৈরি হবে।”
গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা মনে করেন, নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশিয় ফলের আবাদ হয় না। এসময় দেশের ফলের চাহিদা মেটানো হয় আমদানি নির্ভর ফলের মাধ্যমে। জাবুতিকাবার ফলন দেশে হলে অসময়ে ফলের চাহিদা পূরণ হবে।