আদালত থেকে নথি সংগ্রহ করে আইও পরিচয়ে বাদীকে ফোন, গ্রেপ্তার ১
গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন কথা বলে প্রতিবার দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিতেন, বলছে পিবিআই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালী থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পিবিআই।
নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরিপুর এলাকা থেকে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. মোজাম্মেল হকের (৫০) বাড়ি নোয়াখালী হলেও থাকতেন চট্টগ্রাম নগরীতে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি তাদের তদন্ত করা একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় বুধবার পিবিআইয়ের এক এসআই রাউজান থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই রবি চন্দ্র দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একসময় একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করলেও এখন মোজাম্মেলের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। চট্টগ্রাম আদালত ভবনে ঘুরে ঘুরে মামলা ও বাদির তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণা করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বছর দুয়েক আগে মোজাম্মেল চট্টগ্রাম আদালতে যাওয়া-আসা শুরু করেন। সেখানে আদালতের কয়েকজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। তাদের মাধ্যমেই মূলত তিনি এ প্রতারণা শুরু করেন।
পিবিআই জানায়, মোজাম্মেল প্রতিদিন আদালতে যান এবং সেখান থেকে বিভিন্ন মামলার তথ্য, বাদীর নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে মামলার বাদীকে ফোন করে পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া, তদন্তের খরচের কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেন। এজন্য সে অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে আসতেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে মোজাম্মেল বাদীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করতেন। গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন কথা বলে প্রতিবার দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিতেন।
“প্রাথমিকভাবে জেনেছি, দুই বছরে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নিয়েছে মোজাম্মেল। এ ঘটনায় তার সঙ্গে আদালতের কেউ জড়িত আছে কিনা, সেটাও আমরা দেখছি।”
