Published : 06 Sep 2025, 01:37 PM
ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর পৃথিবীতে আগমন এবং বিদায়ের দিনে ঈদে মিলাদুন্নবীতে জশনে জুলুসে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে চট্টগ্রামে।
চট্টগ্রামে শনিবার ৫৪তম বারের মত এই আয়োজন করা হল। আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের আয়োজনে সকালে নগরীর ষোলশহরের আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া-সৈয়দিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
এরপর শোভাযাত্রাটি নগরীর বিবিরহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেইট হয়ে জিইসি মোড়ে পৌঁছায়। পরে জিইসি থেকে দুই নম্বর গেইট হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় গিয়ে শেষ হয়।
এবারের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন পীরে বাঙ্গাল খ্যাত দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশিন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মা.জি.আ)। প্রধান অতিথি ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (মা. জি. আ) এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়্যদ মেহমুদ আহমদ শাহ (মা. জি. আ)।
শোভাযাত্রা শেষে মাদ্রাসার মাঠে মিলাদ, দোয়া ও মাহফিল শুরু হয়েছে।

শোভাযাত্রায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এবার শোভযাত্রার পথ ছিল সীমিত।
প্রতি বছর প্রায় পুরো নগরী জুড়ে শোভযাত্রা হলেও এবার নির্ধারিত রাস্তায় চলেছে শোভযাত্রা। এ কারণে নগরীর বহদ্দারহাট থেকে জিইসি পর্যন্ত এবং আশেপাশের সংযোগ সড়ক ছিল লোকে লোকারণ্য।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে জাতীয় পতাকা, কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন দেখা গেছে।
আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মানবতার মুক্তির দিশারী রাসূল (সা.) এই পৃথিবীতে শুভাগমনের পনেরশ’ বছর পূর্তি এবার। এই বছর আনজুমান ট্রাস্টের শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে এবারের শোভযাত্রা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।
“চট্টগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক হয়ে ওঠা ধর্মীয় এ শোভাযাত্রা শরিয়তসম্মত ঐতিহ্য রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্বের বৃহত্তম মিলাদুন্নবী শোভাযাত্রা হিসেবে আলোচিত এ জুলুসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন এবং আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে।”
প্রতি বছর জুলুসে সাউন্ড সিস্টেমের আধিক্য থাকলেও এবার আয়োজক কমিটির নিষেধাজ্ঞার কারণে তা ছিল কম।
হিজরি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহানবী হযতর মুহম্মদ (সা.)। তার শাহাদৎ বার্ষিকীও একই দিনে। হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী এ দিনটিকেই ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন বাংলাদেশের মানুষ।
দিনটিতে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে।