Published : 05 Oct 2025, 07:09 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে কোন কেন্দ্রে কোন হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন, সেসব নিয়ে প্রার্থী ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন।
এসময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়, সেখানে বলা হয়, ভোটগণনা ওএমআর মেশিনে হবে।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে চাকসু নির্বাচন কমিশন এ মতবিনিময় সভা করেছে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সভায় প্রার্থীদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রস্তুতি এবং সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেছি। তারাও তাদের মতামত দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, পুরাতন কলা অনুষদ, নতুন কলা অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ- এই পাঁচটি অনুষদ ভবনে ভোটের কেন্দ্র হবে।
আরিফুল হক সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনের জন্য পাঁচটি ভবনে মোট ১৫টি কেন্দ্রে সম্ভাব্য ৬৫টি নির্বাচনি কক্ষ, ১৪টি প্রিজাইডিং কক্ষ এবং ৭টি সাব-প্রিজাইডিং কক্ষসহ মোট ৮৬টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি কক্ষে পাঁচটি করে ব্যালট বাক্স থাকবে। এটা কম-বেশিও হতে পারে।
তিনি জানান, চারটি ব্যালট বাক্স চাকসু এবং একটি হল সংসদ নির্বাচনের জন্য থাকবে। একটি কক্ষে ভোটকক্ষে সর্বোচ্চ ৫০০ জন ভোট দিতে পারবেন। একজন ভোটার ভোট কেন্দ্রে ১০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারবেন।
প্রার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ তিন দিন পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনের কারণে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকবে।
নির্বাচন কমিশন আয়োজিত মতবিনিময় সভার তথ্য অনুযায়ী, পুরাতন কলা অনুষদে সোহরাওয়ার্দী হল; নতুন কলা অনুষদে শাহজালাল, এ এফ রহমান ও আলাওল হল; বিজ্ঞান অনুষদে শাহ আমানত, শহীদ আবদুর রব ও মাস্টারদা সূর্যসেন হল; সমাজবিজ্ঞান অনুষদে নওয়াব ফয়জুন্নেসা, শামসুন্নাহার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও অতীশ দীপঙ্কর হল; ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে প্রীতিলতা, বিজয় ২৪, শহীদ ফরহাদ হোসেন হল ও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ভোট গ্রহণ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪টি আবাসিক হল ও একটি হোস্টেল রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ছাত্রদের এবং ৫টি ছাত্রীদের। এর বাইরে শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল রয়েছে।

ভোটের নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-আইসিটি সেলের প্রধান সাঈদুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর। চাকসুর ২৬টি পদের জন্য ৪১৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। ব্যালট পেপারে ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা হবে, যেমন ভর্তি পরীক্ষার বহু-নির্বাচনি পরীক্ষার নম্বর গণনা করা হয়। প্রতিটি কক্ষে পাঁচটি ব্যালট বাক্স থাকবে।”
তিনি বলেন, “প্রত্যেক ব্যালট পেপারে আলাদা নিরাপত্তা কোড থাকবে। এই কোডের মাধ্যমে আমরা যাচাই করতে পারব ব্যালটটি আসল না নকল। বাইরের কোনো কাগজ যদি ওএমআর মেশিনে আসে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেটি শনাক্ত করতে পারব। প্রার্থীদের ছবি দিলে পৃষ্ঠাসংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে, তাই শুধুমাত্র নাম ও ব্যালট নম্বর থাকবে। একই নাম থাকলে ডাকনাম যোগ করা হবে।”
তিনি জানান, নির্বাচনে ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনতে বাইরের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, তবে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
সভায় বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা অংশ নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে চাকসু নির্বাচনের প্রধান কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার কমিশনার অধ্যাপক মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার, অধ্যাপক মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।