এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর দু্ই লাখ কেজি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
Published : 23 Dec 2024, 05:40 PM
প্লাস্টিকমুক্ত নগর গড়তে চট্টগ্রামে ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
সোমবার নগরীর বাকলিয়া স্টেডিয়ামে এক বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এ পাইলট প্রকল্প স্থায়ী করতে নগরীর হালিশহর ও পতেঙ্গা এলাকায় দুটি স্থায়ী স্টোর করা হবে। সেখানে প্রতিদিন প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার সংগ্রহ করা যাবে। এক কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে ছয়টি ডিম, আধা কেজি সুজি, একটি পরনের কাপড় মিলবে।
আবার তিন কেজি পলিথিন বা প্লাস্টিকের পরিবর্তে এক কেজি চিনি, দুই কেজি আটা; চার কেজির বিনিময়ে একটি মাছ, এক লিটার সোয়াবিন তেল; ছয় কেজির বিনিময়ে একটি মুরগি পাওয়া যাবে।
গৃহস্থালী পণ্যের পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণও সংগ্রহ করা যাবে। এক কেজি প্লাস্টিক বা পলিথিনের বিনিময়ে ১২টি কলম, কিংবা চারটি পেন্সিল অথবা খাতা সংগ্রহ করা যাবে। আট কেজি প্লাস্টিক বা পলিথিন দিলে মিলবে একটি স্কুল ব্যাগ।
প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, “জলাবদ্ধতা বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জন করতে পারলে আমরা নগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান পাব। জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ প্লাস্টিক ও পলিথিন।”
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খালে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক ও পলিথিন জমে থাকার কথা তুলে ধরে মেয়র এ বিষয়ে গণসচেতনা বৃদ্ধির তাগিদ দেন।
প্লাস্টিকের বিনিময়ে গৃহস্থালী বাজার নিতে সকাল থেকে বাকলিয়া স্টেডিয়ামে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষদের সঙ্গে শিশুদেরও দেখা গেছে পলিথিন নিয়ে জড়ো হতে। কেউ বস্তায় ভরে মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যান গাড়িতে করে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও পলিথিন নিয়ে আসেন বিনিময় বাজারে।
সেখানে কথা হয় বাকলিয়া বাস্তুহারা কলোনী সংলগ্ন ইসলাম কলোনির বাসিন্দা গৃহবধূ রোকেয়া বেগমের সঙ্গে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বাজার দিবে শুনে প্লাস্টিক নিয়ে এসেছি। বাসায় অব্যহৃত প্লাস্টিকগুলো নিয়ে এসেছি। এখান থেকে পছন্দের বাজার করব।”
বাজার নিতে আসা আব্দুর রহিম নামে এক রিকশা চালক বলেন, রিকশা চালানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের আশায় রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা ভাঙা প্লাস্টিক ও বোতল সংগ্রহ করেন। সেগুলো জমিয়ে রেখে দোকানে বিক্রি করেন।
“দোকানে এক কেজি প্লাস্টিক কেনে ৩২টাকায়। এখানে চাল-ডাল আর গৃহস্থালীর পণ্য দেবে শুনে দোকানে বিক্রি না করে এখানে এসেছি।”
রহিমের ভাষ্য, দোকানে প্লাস্টিক বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, বিদ্যানন্দের বাজারে দেওয়া মালামালের দাম তার চেয়ে বেশি পড়বে।
রহিম-রোকেয়ার মত প্লাস্টিক দিয়ে বাজার নিতে এসেছিল স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিনও ।
তার ভাষ্য, বাসায় পড়ে থাকা প্লাস্টিগুলো সে নিয়ে এসেছে ঘরের জন্য বাজার করতে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সেন্ট মার্টিনকে দূষণমুক্ত করতে ২০২২ সালে সেখানে প্রথম ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ করা হয়েছিল। সে উদ্যোগটি সফল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কক্সবাজারে এবং স্ট্যান্ডর্ড চাটার্ড ব্যাংকের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এ প্রকল্পের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে সিটি করপোরেশনের।
জামাল বলেন, “এ প্রকল্পের আওতায় আমরা প্রতিবছর দু্ই লাখ কেজি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহের টার্গেট করেছি। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে এ ধরনের আয়োজন করা হবে।
“প্রথম বছর দুই লাখ কেজি প্লাস্টিক সংগ্রহের জন্য আমরা এক কোটি ২০ লাখ টাকার পণ্য দিচ্ছি। প্লাস্টিকগুলো রিসাইকেলকারী কোম্পানিকে দেওয়ার পর তারা আমাদের দেবে ৬০ লাখ টাকা।”
কোনো ধরনের অনুদান ছাড়া স্বাধীনভাবে এ প্রকল্প চলমান রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিবছর এ প্রকল্পে আমাদের ভর্তুকির পরিমাণ কমে যাবে। এবছর সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বিনিময়ে আমরা ৬০ লাখ টাকা পাব। যার কারণে আগামী বছর এ প্রকল্পে আমাদের ভর্তুকি থাকবে ৬০ লাখ। প্রতিবছর অর্ধেক টাকা উঠে আসায় চতুর্থ বছরে গিয়ে এ বিনিময় প্রক্রিয়ায় আমাদের পক্ষ থেকে আর কোনো ধরনের ভর্তুকি দিতে হবে না।
পাশাপাশি লোকজনের মধ্যে উৎসাহ বাড়লে চট্টগ্রামকে প্লাস্টিকমুক্ত করা সবজ হবে বলে মনে করেন এ স্বেচ্ছাসেবী।