Published : 06 Jul 2025, 01:06 AM
চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়া ‘শ্রমিক লীগ নেতাকে’ বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর ‘রুকন’ বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী।
সঙ্গে অভিযোগ করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে চাঁদা না দেওয়ায় তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া নওশেদ জামিল মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক।
বৃহস্পতিবার নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় মেঘনা পেট্রালিয়ামের কার্যালয়ের সামনে থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী পরিচয় দেওয়া কিছু শিক্ষার্থী আটক করে তাকে কোতয়ালী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠনো হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের দাবি, নওশেদ জাতীয় শ্রমিক লীগ মেঘনা পেট্রালিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন; তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর।
তবে নওশেদের স্ত্রী রিয়াজুল জান্নাত বলছেন, তার স্বামী জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জামায়াতের রুকন। তিনি নগরীর বাগমনিরাম দক্ষিণ ওর্য়াড জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদকও।
শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ বরাবরে লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, “কিছুদিন ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে নেজাম (নিজাম) উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আমার স্বামীর কাছ থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না পেয়ে স্বামীকে ফাঁসানো হয়।”
কোতয়ালী থানার ওসি আবদুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছু ছাত্র নওশেদ জামিলকে ধরে এনে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা বলেন। তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগ এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামিএমপ্লয়িজ সাধারণ সম্পাদক বলে জানান। আমরা ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠাই।”
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোতয়ালী থানার এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় গত ১২ মার্চ করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নওশেদ জামিল। তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।”
চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। নওশেদ জামিলকে গত ৩ জুলাই কিছু ছাত্র আটকের পর কোতয়ারী থানায় নিয়ে আসেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করে তার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়।
“আমি তাদের (পুলিশ) বলেছি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, এর বাইরে কিছৃই বলিনি। ওই ব্যক্তি শ্রমিক লীগের হয়ে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। তার স্ত্রীর পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে সবাই জানেন।”
নিজামের সদস্যপদ স্থগিত
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনকে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ কাজের জন্য প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
শনিবার রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত এবং কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নিজাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কারণ দর্শাতে বলে নোটিস দিয়েছে। আগামীকাল (রোববার) এর জবাব দেব।
“আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সবই ভিত্তিহীন। আমাকে হেয় করার জন্য এসব করা হচ্ছে।”