Published : 30 May 2026, 02:18 PM
চট্টগ্রামের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ’ রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন জিয়াউর রহমান দেখিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে বন্দরনগরীর ষোলশহর এলাকায় বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এ কথা বলেন মেয়র।
তিনি বলেন, "দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে একটি মহল নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।"
শাহাদাত বলেন, "বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে নানা উপায়ে বিকৃত ও ভুলুণ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।”
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মেয়র বলেন, বিপ্লব উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
“১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে এখান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন। তার নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও সাহসিকতা স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"

জিয়াউর রহমানের হাতে বিএনপি প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করে দলটির নেতা শাহাদাত বলেন, "তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন ধারা সূচনা করেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
"শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও রেমিট্যান্স খাতে তার গৃহীত পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছিল। তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।"
আজও বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাত জিয়াউর রহমানের ‘দূরদর্শী নীতির’ ওপর দাঁড়িয়ে আছে মন্তব্য করে শাহাদাত বলেন, "তার সুযোগ্য পুত্র বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
"শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সংকটাপন্ন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তার আদর্শ ধারণ করে দুর্নীতিমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"
জিয়াউর রহমানের ‘দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শকে’ ধারণ করে একটি ‘উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক’ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান চট্টগ্রামের মেয়র।
চট্টগ্রাম সন্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপি নেতা গোলাম কাদের চৌধুরী নোবেল, মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, জাকির হোসেন, সিটি করপোরেশন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন, মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি শাহেদ আকবর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, আবদুল আহাদ রিপন, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দীন কাদের আসাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।