মিরপুরে ব্যাটিং তাণ্ডবে আজম খানের সেঞ্চুরি
এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি এলো আজম খানের ব্যাট থেকে।
মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর খাটো লেংথের ডেলিভারি ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে সীমানার ওপারে পৌঁছতেই পিচের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন আজম খান। এক হাতে ব্যাট আর অন্য হাতে হেলমেট নিয়ে ছড়িয়ে দিলেন দুই হাত। মুখে বিস্তৃত হাসি নিয়ে সেরে নিলেন এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরির উদযাপন।
বিপিএলের এবারের আসর তো বটেই, সাদা বলের ক্রিকেটেই আজমের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি এটি। ছক্কায় সেই অনির্বচনীয় স্বাদ পাওয়ার পরের বলে ছক্কা মেরে ইনিংসের শেষটিও দারুণভাবে রাঙান খুলনা টাইগার্সের কিপার-ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান করে খুলনা।
অপরাজিত ইনিংসে স্রেফ ৫৮ বলে ১০৯ রান করেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ৯টি চারের সঙ্গে ৮টি ছয়ে সাজান নিজের ইনিংসটি।
সবমিলিয়ে বিপিএলের ২৬তম সেঞ্চুরি এটি। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিপিএলে সেঞ্চুরি ছিল আগে কেবল আহমেদ শেহজাদের, সেই প্রথম আসরে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার শুরুটা তেমন ভালো ছিল না। চার ওভারের মধ্যে স্রেফ ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল তারা। আজমের ব্যাটিংয়েই দূর হয় সব শঙ্কা, দল পায় লড়াই করার বড় পুঁজি।
চার নম্বরে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন আজম। চতুর্থ বলে দেখা পান প্রথম বাউন্ডারির। শুভাগত হোমের করা পরের বল ডিপ মিড উইকেট দিয়ে বিশাল ছক্কা মেরে চট্টগ্রামের বোলারদের বার্তা দিয়ে দেন, ঝড় আসছে!
অন্য প্রান্তে ধুঁকছিলেন তামিম। কিন্তু আজমের ব্যাটে সচল থাকে খুলনার রানের চাকা। ফিফটিতে পা রাখেন তিনি ১৪তম ওভারে। ৩৩ বলে এই মাইলফলক ছোঁয়ার পথে ৪ চারের সঙ্গে ছয় মারেন ৩টি।
ফিফটির পর যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন আজম। পরের পঞ্চাশ রান করতে তার লাগে স্রেফ ২৪ বল। ভিজয়কান্থ ভিয়াসকান্তের করা ১৫তম ওভারে মারেন দুটি ছক্কা তিনি। পরের ওভারে জিয়াউর রহমানের বলে মারেন জোড়া বাউন্ডারি।
কয়েকটি শটে তিনি মনে করিয়ে দেন তার বিখ্যাত বাবাকে। পাকিস্তানের সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান মঈন খান যেমন যেমন কিছু উদ্ভাবনী শট খেলতেন, হাঁটু গেঁড়ে সুইপের মতো করে উড়িয়ে মারতেন পেসারদের, ছেলে আজমকেও দেখা যায় তেমন কয়েকটি শট খেলতে।
১৬ ওভার শেষে আজমের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭২ রান। দৃষ্টিসীমায় চলে আসে সেঞ্চুরি। মৃত্যুঞ্জয়ের করা ১৮তম ওভারে চার ও ছয় মেরে আরও কাছে যান তিনি। তবে পরের ওভারে একটি চারের বেশি মারতে পারেননি তিনি।
শেষ ওভারের চতুর্থ বলে আজম যখন স্ট্রাইক পান তখনও সেঞ্চুরি থেকে ছিলেন ৭ রান দূরে। চার মেরে ৯৭ রানে পৌঁছে যান আজম। পরে শেষ দুই বলে ছক্কা মেরে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার তৃপ্তি নিয়েই ফেরেন ড্রেসিংরুমে।
