এখনই ইংল্যান্ডের মতো আগ্রাসী খেলার ‘অবস্থায় নেই’ বাংলাদেশ
চমকপ্রদ কিছু করে জয়ের পরিকল্পনা করার আগে বাংলাদেশকে ভাবতে হবে পরাজয় এড়ানো, বলছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।
পাকিস্তান সফরে সাফল্যের পর ক্রিকেট বিশ্বে এখন আলোচনার তুঙ্গে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী টেস্ট ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়াও ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সফলভাবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের চিরায়ত চরিত্র বদলে দেওয়ার হাওয়া বইছে ক্রিকেট বিশ্বে। তবে বাংলাদেশের পক্ষে এখনই সেই হাওয়ায় ডানা মেলে দেওয়া সম্ভব নয়, বলছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।
ওয়ানডেতে যতটা স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করে বাংলাদেশ, অন্য দুই সংস্করণে তাদের অবস্থা ঠিক বিপরীত। টেস্ট ক্রিকেটে এখনও পায়ের নিচে শক্ত মাটি খুঁজে পায়নি তারা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে বছর শুরু করলেও চলতি বছর সাদা পোশাকে ভালো জায়গায় নেই বাংলাদেশ। ৮ ম্যাচ খেলে জয় ও ড্র একটি করে, হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে বাকি ৬ ম্যাচে।
তাই চমকপ্রদ কিছু করে জয়ের পরিকল্পনা করা বাস্তবতায় বাংলাদেশ নেই বলেই মনে করেন ডমিঙ্গো। তার ভাবনাজুড়ে আছে বরং লড়াই করে হার এড়ানো। ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের সংবাদ সম্মেলনে কোচের কথায় ইঙ্গিত, আগে অন্তত ড্র নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।
“আমরা ইংল্যান্ডের মতো ব্যাট করব কি না? আমার মনে হয় না আমরা তা করব। অন্তত এই মুহূর্তে না। ইংল্যান্ড যেভাবে খেলে, অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর! খেলাটাকে নতুন দিনে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এটা তাদের বড় কৃতিত্ব। তবে আমি মনে করি না দল হিসেবে আমরা এখনও ওই পর্যায়ে আছি যে অমন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করতে পারি।”
“আমাদের জিততে চাওয়ার আগে খুঁজতে হবে না হারার পথ খুঁজতে হবে। কারণ এই সংস্করণে এখনও আমাদের খুব সহজে হারানো যাচ্ছে।”
কোচের কথার প্রতিফলন পড়েছে বাংলাদেশের অনুশীলনেও। কোনো ব্যাটসম্যানই নেটে খুব বেশি আগ্রাসী শট খেলেননি। লিটন দাস, মুশফিকুর রহিমরা ব্যাটিংয়ের মৌলিক দিকগুলোই ঝালিয়ে নিয়েছেন বেশি সময় নিয়ে। নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মাহমুদুল হাসান জয়দের ব্যাটেও নেটে মারকাটারি ব্যাটিংয়ের চেষ্টা খুব একটা ছিল না।
তবে ভারতের অনুশীলনে স্পষ্ট দেখা গেছে আগ্রাসনের ছাপ। শুধু রিশাভ পান্ত বা বিরাট কোহলিই নন, রয়েসয়ে খেলার জন্য পরিচিত চেতেশ্বর পুজারাও তেড়েফুঁড়ে শট খেলেছেন নেট সেশনে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলে গেছেন, ইংল্যান্ডের মতো অতটা না হলেও এই টেস্ট সিরিজে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলবে তার দল।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ যদিও মনে করেন, ভারতও আপাতত চিরায়ত পথেই হাঁটবে টেস্ট ক্রিকেটে।
“আমার মনে হয় না ভারত ওই ধরনের ক্রিকেট খেলবে। কারণ তারাও কিছুটা প্রথাগত উপায়ে টেস্ট খেলে। যদিও তাদের এমন কিছু ক্রিকেটার আছে, যারা দ্রুতই ম্যাচটা প্রতিপক্ষের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। তারা সবাই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটার। ধৈর্য ও শৃঙ্খলা রেখে বল করতে হবে আমাদের, চাপের সময় শান্ত থাকতে হবে।”
“তবে আমি ভারতের কাছ থেকে ইংল্যান্ডের মতো ক্রিকেটের প্রত্যাশা করি না। আমার মনে হয় না এটা তাদের টেস্ট খেলার ধরন।”
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় মাঠে গড়াবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট।
