ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধসের পর জয়সওয়ালের আরেকটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

রাজকোট টেস্টে ইংল্যান্ডকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার পথে ভারত।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Feb 2024, 12:28 PM
Updated : 17 Feb 2024, 12:28 PM

স্রেফ ২ উইকেট হারিয়ে রান দুইশ পেরিয়ে। ক্রিজে থাকা এক ব্যাটসম্যানের রান দেড়শর কাছে। সামনে বড় সংগ্রহের হাতছানি। কিন্তু নাটকীয় ব্যাটিং ধসে ইংল্যান্ড গুটিয়ে গেল তিনশ পেরিয়েই। সিরিজের শুরু থেকে দারুণ ছন্দে থাকা ইয়াশাসবি জয়সওয়াল করলেন আরেকটি দারুণ সেঞ্চুরি। ম্যাচের লাগাম মুঠোয় নিল ভারত।

রাজকোট টেস্টে ইংল্যান্ডকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার পথে ছুটছে রোহিত শার্মার দল। তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকরা এগিয়ে আছে ৩২২ রানে, হাতে আছে ৮ উইকেট।

এ দিনও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো ছিল। কিন্তু কয়েক জনের আলগা শটের মাশুল দিয়ে ৯৫ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থামে ৩১৯ রানে। ১৩৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে ১৫৩ রানে থামেন বেন ডাকেট।

১২৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে দিন শেষে ভারতের রান ২ উইকেটে ১৯৬।

আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান জয়সওয়াল এবার ১০৪ রান করে মাঠ ছাড়েন পিঠে অস্বস্তি অনুভব করায়। তার ১৩৩ বলের ইনিংসে ৯টি চারের পাশে ছক্কা ৫টি।

তরুণ এই ওপেনার ব্যাটিংয়ের শুরুতে সময় নেন থিতু হতে। প্রথম ৫০ বলে তার রান ছিল ১৮। পরের ৫০ বলে করে ফেলেন ৭০ রান।

জয়সওয়ালের সঙ্গে দেড়শ ছাড়ানো জুটি গড়ে ৬৫ রানে অপরাজিত আছেন আরেক তরুণ ব্যাটসম্যান শুবমান গিল।

ম্যাচের মাঝপথে বোলিংয়ে ভারতের শক্তি কমে গেছে অনেকটা। আগের দিন টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন তার মায়ের অসুস্থতায় খবর জেনে ওই রাতেই চলে যান টিম হোটেল ছেড়ে। ম্যাচের বাকি অংশে তাকে আর পাবে না দল।

শনিবার তৃতীয় দিনে সুযোগটা তবু কাজে লাগাতে পারেনি ইংল্যান্ড। তাদের ব্যাটিং ধসের শুরুটা জো রুটের বিদায়ের মধ্য দিয়ে। বেন স্টোকসের নেতৃত্বে রুটের ট্রেডমার্ক শট হয়ে উঠেছে যেটি, দিনের পঞ্চম ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহকে সেই রিভার্স স্কুপ শটের চেষ্টায় দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক (৩১ বলে ১৮)।

এই সিরিজে রুটের বাজে ফর্মের পথচলা দীর্ঘায়িত হলো আরও। পাঁচ ইনিংসে এখনও ত্রিশ ছাড়াতে পারেননি তিনি।

সাদা পোশাকে ২১ ইনিংসে রুটকে ৯ বার আউট করলেন বুমরাহ।

পরের ওভারে বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভের দারুণ ডেলিভারিতে জনি বেয়ারস্টো এলবিডব্লিউ হন শূন্য রানে।

ভারতের বিপক্ষে টেস্টে এই নিয়ে ৮ বার শূন্য রানে ফিরলেন তিনি। দলটির বিপক্ষে এই সংস্করণে কোনো ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বেশি শূন্যর নজির এটিই। ৭ বার করে আছে পাকিস্তানের দিনেশ কানেরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার ন্যাথান লায়নের।

ডাকেট দেড়শতে পা রাখেন ১৩৯ বলে। ২০০০ সাল থেকে ভারতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম দেড়শ ছোঁয়ার নজির এটি।

তিনিও বিলিয়ে আসেন উইকেট। কুলদিপের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তার ১৫৩ রানের ইনিংস গড়া ২৩ চার ও ২ ছক্কায়।

বেন ফোকসের সঙ্গে জুটিতে দলের স্কোর তিনশর কাছে নিয়ে যান স্টোকস। কিন্তু দুজন বিদায় নেন পরপর দুই বলে। তাদের ৩৯ রানের জুটি ভাঙার পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি সফরকারীরাও।

রবীন্দ্র জাদেজাকে ছক্কার চেষ্টায় উড়িয়ে মেরে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন স্টোকস। শেষ হয় ইংলিশ অধিনায়কের ৮৯ বলে ৪১ রানের ইনিংস। মোহাম্মদ সিরাজের বলে মিড অনে ক্যাচ দেন ফোকস।

সিরাজ এরপর দুটি ইয়র্কারে ফিরিয়ে দেন রেহান আহমেদ ও জেসস অ্যান্ডারসনকে। মাঝে জাদেজার দ্বিতীয় শিকার টম হার্টলি।

ইংল্যান্ড শেষ ৫ উইকেট হারায় স্রেফ ২০ রানে।

৮৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার সিরাজ।

শতরানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে অ্যান্ডারসনের প্রথম ওভারে টানা দুটি চার মেরে শুরু করেন রোহিত। প্রথম ইনিংসের এই সেঞ্চুরিয়ান এবার অবশ্য ইনিংস টেনে নিতে পারেননি বেশিদূর। ২৮ বলে ১৯ রান করা ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ করে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রুট। ইংল্যান্ড সাফল্য পায় রিভিউ নিয়ে।

গিল দ্বিতীয় বলে চার মেরে দেখা পান প্রথম রানের। চা-বিরতির সময় জয়সওয়ালের রান ছিল ৫৪ বলে ১৯, একটা পর্যায়ে ৭৩ বলে ৩৫। এরপরই অ্যান্ডারসনের টানা তিন বলে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে শুরু হয় তার আগ্রাসী ব্যাটিং।

পরের ওভারে তিনি টানা দুটি ছক্কা মারেন স্পিনার হার্টলিকে। ছক্কায় ওড়ান রেহান ও রুটকেও। ৯৬ থেকে মার্ক উডকে কাভার-পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১২২ বলে।

২২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরি হয়ে গেল ১৩ ইনিংসেই।

ছক্কায় গিল ফিফটি পূর্ণ করেন ৯৮ বলে। এর একটু পরই মাঠ ছাড়েন জয়সওয়াল। আগের টেস্টে অভিষিক্ত রাজাত পাতিদার টিকতে পারেননি। রেহানের বলে আলগা শটে তিনি ফেরেন ১০ বলে শূন্য রানে।

‘নাইটওয়াচম্যান’ কুলদিপকে নিয়ে দিনের বাকি অংশটুকু কাটিয়ে দেন গিল। চতুর্থ দিনে তার সামনে সিরিজে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির হাতছানি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ১ম ইনিংস: ৪৪৫

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২০৭/২) ৭১.১ ওভারে ৩১৯ (ডাকেট ১৫৩, রুট ১৮, বেয়ারস্টো ০, স্টোকস ৪১, ফোকস ১৩, রেহান ৬, হার্টলি ৯, উড ৪*, অ্যান্ডারসন ১; বুমরাহ ১৫-১-৫৪-১, সিরাজ ২১.১-২-৮৪-৪, কুলদিপ ১৮-২-৭৭-২, অশ্বিন ৭-০-৩৭-১, জাদেজা ১০-০-৫১-২)

ভারত ২য় ইনিংস: ৫১ ওভারে ১৯৬/২ (জয়সওয়াল ১০৪ রিটায়ার্ড হার্ট, রোহিত ১৯, গিল ৬৫, পাতিদার ০, কুলদিপ ৩*; অ্যান্ডারসন ৬-১-৩২-০, রুট ১৪-২-৪৮-১, হার্টলি ১৫-২-৪২-১, উড ৮-০-৩৮-০, রেহান ৮-০-৩১-০)