প্রথম সেঞ্চুরিতে নাঈমের অপরাজিত ১৭৬, আকবর-সাব্বিরের ‘টানা তিন’
ক্যারিয়ারের প্রথম তিন সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার কাছাকাছি নাঈম আহমেদ, কাছে গিয়েও টানা দ্বিতীয় শতক করতে পারলেন না সাব্বির রহমান।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের শুরুতে বেশ সম্ভাবনার ছাপ রেখেছেন নাঈম আহমেদ। ষষ্ঠ ম্যাচে এসে তিনি পেয়ে গেলেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদও। স্রেফ শতরান ছুঁয়েই থেমে থাকেননি তরুণ ব্যাটসম্যান, ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন আরও অনেক দূর।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম দুই রাউন্ডে ১৫টি সেঞ্চুরির দেখা মিললেও ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেননি কেউ। সেই হাতছানি এবার নাঈমের সামনে। ১৭৬ রানে অপরাজিত আছেন রাজশাহীর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।
একই দলের সাব্বির রহমানের সামনে ছিল টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। তবে সেটি করতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। সাব্বিরের মতোই টানা তিন ম্যাচে পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস খেললেন আকবর আলি। তবে কোনোটিই তিন অঙ্কে নিতে পারেননি রংপুর অধিনায়ক।
তৃতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন সব মিলিয়ে ব্যাটে-বলে লড়াই জমেছে দারুণ। নাঈমের সেঞ্চুরি, সাব্বির-আকবরের ফিফটি ছাড়াও সোমবার পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন আরও দশ ব্যাটসম্যান।
নাঈম ১৭৬*, সাব্বির ৮৬
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে বড় লিড নিয়েছে রাজশাহী। দ্বিতীয় দিন শেষে ১৯৫ রানে এগিয়ে গেছে তারা। ৫ উইকেটে ৪২৪ রান নিয়ে মঙ্গলবার খেলা শুরু করবে স্থানীয় দলটি।
তবে দিনের শুরুতে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপেই পড়ে রাজশাহী। বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি হাবিবুর রহমান সোহান ও প্রিতম কুমার।
চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে লিড এনে দেন নাঈম ও সাব্বির। দুজন মিলে যোগ করেন ১৫২ রান। আগের রাউন্ডে ১১৩ রান করা সাব্বির এবার ফেরেন ৮৬ রান করে। ১১৮ বলের ইনিংসে ১৩ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মারেন তিনি।
দিনের শেষ দিকে এসএম মেহেরব হাসানের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১০৪ রান যোগ করেন নাঈম। ৫৭ বলে ফিফটি করার পর আরও সাবধানী হয়ে ৯৪ বলে পরের পঞ্চাশ রান করেন ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
গত জাতীয় লিগ শেষ করেছিলেন নাঈম ৮১ রানের ইনিংস খেলে। এবার প্রথম ম্যাচে করেন ৪৫ ও ৪৭। পরের ম্যাচে আরেকটু এগিয়ে খেলেন ৬৯ রানের ইনিংস। এবার আরও এগিয়ে পেরিয়ে গেলেন শতরান।
দিন শেষে ২৫ চারে ২৩৩ বলে ১৭৬ রানে অপরাজিত নাঈম, ৫৭ রানে খেলছেন মেহেরব।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
বরিশাল ১ম ইনিংস: ২২৯
রাজশাহী ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২৪/১) ৯২ ওভারে ৪২৪/৫ (হাবিবুর ৩৯, নাঈম ১৭৬*, প্রিতম ২৬, সাব্বির রহমান ৮৬, শাকির ২৩, মেহেরব ৫৭*; কামরুল ১২-০-৫৯-০, রুয়েল ১৫-১-৮৯-২, অভি ১৮-১-৭২-২, মইন ২৫-৩-১০৮-১, শহিদুল ১৪-০-৫৯-০, ইফতেখার ১-০-৮-০, রাফসান ৭-১-২৮-০)
আকবরের ফিফটির হ্যাটট্রিক
আরও একবার পঞ্চাশ পেরিয়েও সেঞ্চুরি করতে না পারার হতাশায় পুড়েছেন আকবর আলি। তার সঙ্গে মিম মোসাদ্দেকের ফিফটিতে সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড পেয়েছে রংপুর।
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দিনে শুরু হয়ে গেছে ম্যাচের তৃতীয় ইনিংস। দিন শেষে ৭ রানে এগিয়ে সিলেট।
দ্বিতীয় উইকেটে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েন মিম। এরপর আর তেমন বলার মতো কোনো জুটি পায়নি রংপুর। আগের রাউন্ডে দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস খেলা মিম আউট হন ৫৯ রান করে।
পরে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেন আকবর। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রংপুর অধিনায়ক। পরে নাসুম আহমেদের বলে ক্যাচ আউট হলে আবারও ভাঙে তার সেঞ্চুরির স্বপ্ন। তিন চারের সঙ্গে চারটি ছক্কা মেরে ১৬৫ বলে তিনি করেন ৭৪ রান। আগের দুই রাউন্ডে ৬৪ ও ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
সিলেটের হয়ে ২৫ ওভারে মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন দীর্ঘদেহী অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের শিকার ৩টি।
শেষ ঘণ্টায় ব্যাট করতে নেমে বিপদ ঘটতে দেননি সিলেটের দুই ওপেনার সৈকত আলি ও জাকির হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
সিলেট ১ম ইনিংস: ১৭৯
রংপুর ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩২/১) ৮৭ ওভারে ২০৬ (মিম ৫৯, ইকবাল ২৩, মামুন ১, আকবর ৭৪, রিজওয়ান ১৩, নাসির ৪, হাশিম ২৩, মেহেদি ২, স্বাধীন ০, হাসিবুল ০*; খালেদ ১৬-১-৩০-০, তোফায়েল ১৩-০-৪৯-১, নাঈম ২৫-৭-৩৩-৪, নাসুম ২৪-৪-৬৫-৩, নাবিল ৯-২-২৬-১)
সিলেট ২য় ইনিংস: ১৪ ওভারে ৩৪/০ (সৈকত ১৬*, জাকির ১৭*; মেহেদি ৫-২-১২-০, নাসির ৪-১-৭-০, ইকবাল ২-০-৬-০, হাশিম ১-০-২-০, হাসিবুল ১-০-৪-০, রিজওয়ান ১-০-৩-০)
শুভাগত-রকিবুলের ফিফটির পর নাঈমের জবাব
কক্সবাজারে ময়মনসিংহের শুরুটা ছিল হতাশাময়। চার ওভারের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান আগের দিন সেঞ্চুরি করা মাহফিজুল ইসলাম, রিজান হোসেন ও আবু হায়দার রনি। তবে পরে হাল ধরেন শুভাগত হোম ও রকিবুল হাসান। দল পায় বড় সংগ্রহ।
প্রথম দিনের ১১৬ রানের সঙ্গে কিছুই যোগ করতে পারেননি মাহফিজুল। রিজান আউট হন ৪৪ রান করে।
পরে অষ্টম উইকেটে ১২৮ রানের জুটি গড়েন শুভাগত ও রকিবুল। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি করে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬১ রানে আউট হন ৯ নম্বরে নামা রকিবুল। আর ৩৯তম ফিফটি করা শুভাগতর ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান।
আগের রাউন্ডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট পাওয়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবার নেন ৭৮ রানে ৪ উইকেট।
দিন শেষে ঢাকার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১২০ রান। ৮ চারে ৯২ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত নাঈম শেখ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২২৬/৪) ১২৯.২ ওভারে ৩৮৭ (মাহফিজুল ১১৬, রিজান ৪৪, শুভাগত ৭১, আবু হায়দার ৪, রকিবুল ৬১, আজিজুল ১৪, গালিব ২*; সুমন ২৩-৫-৫৪-৩, শাকিল ১৩-২-৫৩-০, আরিফ ৩৯-৫-৯৮-২, আমিনুল ২৫.২-০-৭৮-৪, মাহফুজুর ২২-২-৮১-১, তাইবুর ৭-১-১২-০)
ঢাকা ১ম ইনিংস: ২৯.৪ ওভারে ১২০/৩ (নাঈম ৬৪*, জিসান ১৩, আশিকুর ২৮, মার্শাল ০, মাহফুজুর ৯*; আবু হায়দার ৬-১-২৪-১, গালিব ৭-০-৩০-০, রিজান ৩-১-১৫-০, রকিবুল ৬-০-১৭-২, আজিজুল ২-০-১২-০, শুভাগত ৪-১-১১-০, আল আমিন ১.৪-০-৫-০)
পাঁচ ফিফটিতে জমেছে খুলনা-চট্টগ্রাম লড়াই
সিলেটের একাডেমি মাঠে খুলনা-চট্টগ্রাম ম্যাচের দ্বিতীয় দিন পঞ্চাশ পেরিয়েছেন পাঁচ ব্যাটার। কিন্তু কেউই ৬০ ছাড়াতে পারেননি। তবে দিন শেষে ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে বড় কিছুর সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন আফিফ হোসেন।
ম্যাচের দুই দিনে পড়েছে মোট ২৬ উইকেট। দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনার লিড ১১২ রানের। তাদের বাকি রয়েছে আর ৪ উইকেট।
খুলনার ২০১ রানের জবাবে ৩ উইকেটে ৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে চট্টগ্রাম। ফিফটির দেখা পান শাহাদাত হোসেন, ইরফান শুক্কুর ও শামীম হোসেন। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে আড়াইশ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম।
ঠিক পঞ্চাশ করে আউট হন আগের রাউন্ডে সেঞ্চুরি করা শাহাদাত। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ইরফান। তিনটি করে চার-ছক্কায় ৬১ বলে পঞ্চাশ পেরিয়ে আবারও বড় শটের চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়েন শামীম।
খুলনার তরুণ অফ স্পিনার শেখ পারভেজ রহমান ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে নেন ৪৭ রানে ৪ উইকেট।
পরে আহমেদ শরিফের প্রথম বল ছক্কায় উড়িয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন এনামুল হক। সব মিলিয়ে তিন চার ও এক ছক্কায় ওভার থেকে তারা নেন ১৯ রান। একই ছন্দ ধরে রেখে ৫৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
পরের ব্যাটসম্যানরা হতাশ করলেও পাঁচ নম্বরে নেমে একপ্রান্ত ধরে রাখেন আফিফ। ইনিংসের শুরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া আজিজুল হাকিমকে নিয়ে নতুন দিন শুরু করবেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
খুলনা ১ম ইনিংস: ২০১
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৭২/৩) ৬৩ ওভারে ২৫০ (জয় ২৫, সাদিকুর ১২, শাহাদাত ৫০, ইয়াসির ২, ইরফান ৫৯, শামীম ৫১, মুরাদ ৮, রুবেল ১, শরিফ ৬, হাসনাত ৯*, আশরাফুল ১৭; সফর ৬-১-৩২-০, মেহেদি ১৯-৪-৭৪-১, মৃত্যুঞ্জয় ১০-০-৬২-২, শেখ পারভেজ ১৬-৩-৪৭-৪, সামিউন ১২-০-৩৪-৩)
খুলনা ২য় ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৬১/৬ (এনামুল ৫৩, আজিজুল ১২*, কালাম ১, মিঠুন ০, আফিফ ৫৮*, ইমরানউজ্জামান ৯, মেহেদি ২০, মৃত্যুঞ্জয় ৮; শরিফ ১-০-১৯-০, রুবেল ১৪-৪-৩৬-১, আশরাফুল ৮-২-১৯-০, হাসনাত ৫-০-২৯-০, মুরাদ ১১-২-৩৬-২, জয় ৫-০-২২-২)
