০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দ. আফ্রিকার তোপ সামলে লড়ছে অস্ট্রেলিয়া

২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমে ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়া।

দ. আফ্রিকার তোপ সামলে লড়ছে অস্ট্রেলিয়া

স্টিভেন স্মিথকে (ডানে) আউট করা মার্কো ইয়ানসেনকে ঘিরে দক্ষিণ আফ্রিকার উল্লাস। ছবি: প্রোটিয়াস মেন এক্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 08:39 PM

Updated : 09 Oct 2026, 09:36 PM

প্রথম ঘণ্টায় নেই দুই ওপেনার। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি আরও কয়েকজন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের আক্রমণে বিপাকে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে কক্ষপথে ফেরানোর চেষ্টা করছেন ম্যাট রেনশ ও প্যাট কামিন্স। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সফরকারীরা।

আলোকস্বল্পতায় ডারবান টেস্টে শুক্রবার প্রথম দিনের খেলা শেষ হয়েছে আগেভাগে। ৬৫.২ ওভার ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া।

২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম টেস্ট খেলছে অস্ট্রেলিয়া। ওই ঘটনায় এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া স্টিভেন স্মিথও আছেন এবারের সফরের দলে।

হালকা ঘাসের ছোঁয়ার উইকেটে বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্ট পেয়েছেন পেসার। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি উইকেট ভাগ করে নেন দক্ষিণ আফ্রিকার তিন পেসার আনরিখ নরকিয়া, মার্কো ইয়ানসেন ও ভিয়ান মুল্ডার।

১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে এখন টানছেন রেনশ ও কামিন্স। তিনটি চারে ৪৮ রানে খেলছেন রেনশ। পাঁচটি চারে ৩৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন কামিন্স। তাদের জুটি অবিচ্ছিন্ন ৬৩ রানে।

টস জেতা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংস শুরু করেন নিক ম্যাডিনসন ও ট্রাভিস হেড। ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেওয়ার পর আরও একবার ওপেনিং জুটিতে বদল আনে তাসমান সাগর পারের দলটি।

প্রায় ১০ বছর পর টেস্ট খেলতে নামা ম্যাডিনসনকে চতুর্থ ওভারে ফেরানোর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দেয়নি, রিভিউ নেয়নি তারাও। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় আউট ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

মুল্ডারের করা অষ্টম ওভারে সেই ভুল আর করেনি স্বাগতিকরা। এবার কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে ট্রাভিস হেডকে ফেরায় তারা। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে আউট হওয়া বাঁহাতি ওপেনারের চোখেমুখে ছিল বিরক্তির ছাপ।

অণ্ডকোষের ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় গত ১৯মাস কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ না খেলা ম্যাডিনসন ক্রিজে অনেকটা সময় কাটান। কিন্তু তাকে স্বাচ্ছন্দ্য মনে হয়নি একটুও। ইয়ানসেনের বলে শেষ হয় তার ভোগান্তি। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন তিনি।

৩৩ বলে শূন্য রান করে ফেরেন ম্যাডিনসন। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বল খেলে রানের খাতা খুলতে না পারার নজির এটি। একবিংশ শতাব্দীর ওপেনারদের মধ্যেও যা সর্বোচ্চ।

২৪ রানে দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে দলকে পথে রাখার চেষ্টা করেন মার্নাস লাবুশেন ও স্মিথ। ৬০ রানের জুটি গড়েন তারা।

আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছিলেন দুইজনই। ইয়ানসেনকে ওভারে দুটি চার মারেন লাবুশেন। আর অভিজ্ঞ স্পিনার কেশাভ মহারাজের ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান স্মিথ।

লাঞ্চের আগে ও পরে টানা দুই ওভারে বিদায় নেন থিতু দুই ব্যাটসম্যান। মুল্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হন লাবুশেন। ছয় চারে ৩৭ রান করা ব্যাটসম্যান রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। তার উইকেট দিয়েই শেষ হয় প্রথম সেশন।

বিরতির পর তৃতীয় বলে স্মিথকে ফিরিয়ে দেন ইয়ানসেন। সেখানেও নাম জড়িয়ে মুল্ডারের, গালিতে অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটসম্যানের ক্যাচটি মুঠোয় জমান তিনি। তিনটি চারে ৪৬ রান করেন স্মিথ।

৪২তম ওভারে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে জোড়া ছোবল দেন নরকিয়া। ওভারের চতুর্থ বলে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়েন অ্যালেক্স কেয়ারি। ক্রিজে গিয়ে মুখোমুখি প্রথম বলে চার হাঁকান বাউ ওয়েবস্টার। পরের বলে কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

দারুণ ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় সেশনের বাকিটা কাটিয়ে দেন রেনশ ও কামিন্স। তৃতীয় সেশনের মাঝামাঝিতে আকাশ মেঘলা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দিনের খেলার ইতি টেনে দেন আম্পায়াররা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৬৫.২ ওভারে ১৮৭/৬ (ম্যাডিনসন ০, হেড ৯, লাবুশেন ৩৭, স্মিথ ২৫, রেনশ ৪৬*, কেয়ারি ১৪, ওয়েবস্টার ৪, কামিন্স ৩৩*; ইয়ানসেন ১৬-৭-৩৫-২, মুল্ডার ১৫-৬-৩১-২, নরিকিয়া ১৩.২-২-৪০-২, মহারাজ ৭-০-৩৩-০, হার্মার ১৪-১-৩৪-০)