শিরোপা জেতার আসরে রানে সেরা তামিম

ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে আরও একবার বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন তামিম ইকবাল। 

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 March 2024, 05:25 PM
Updated : 1 March 2024, 05:25 PM

প্রায় চার মাস পর স্বীকৃত ক্রিকেটে ফিরে সেরা ছন্দের ছাপ রাখলেন তামিম ইকবাল। ফরচুন বরিশালকে প্রথম শিরোপা জিতিয়ে নিজে হলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।  

তামিম ছাড়াও এবারের আসরে রানের তালিকায় দেশি ব্যাটসম্যানদের জয়জয়কার। সেরা ৫ ব্যাটসম্যানের সবাই বাংলাদেশি। টুর্নামেন্টে অন্তত ৩০০ রান করা ৭ ব্যাটসম্যানের ৬ জনই বাংলাদেশের।

তামিম ইকবাল 

ফরচুন বরিশালের শিরোপা জয়ে অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাট হাতে বড় অবদান রেখেছেন তামিম ইকবাল। ফাইনাল ম্যাচে ২৬ বলে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার। এর আগেও ধারাবাহিকভাবে খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস।  

সব মিলিয়ে ১৫ ইনিংসে আসরের সর্বোচ্চ ৪৯২ রান করেছেন তামিম। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে ৫২ রানের ইনিংসসহ ৩টি পঞ্চাশ এসেছে তার ব্যাট থেকে। বিপিএলে ৩ হাজার রান করা প্রথম ব্যাটসম্যানও হয়েছেন তিনি।  

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন তামিম। ২০১৬ সালে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে ৪৭৬ রান করেছিলেন তিনি। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে প্রথমবার টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতেছেন তারকা বাঁহাতি ওপেনার। 

অথচ টুর্নামেন্টের শুরুতে ইনিংস বড় করতে না পারার ব্যর্থতায় ভুগছিলেন তামিম। প্রথম ৮ ইনিংসে ৫ বার ২০ ছুঁয়েও পঞ্চাশ করতে পারেননি বরিশাল অধিনায়ক। দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে ৪৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে সেই আক্ষেপ ঘোচান তিনি।  

পরে প্লে-অফের টিকেট নিশ্চিত করার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৬৬ রান। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে স্রেফ ১০ রানে ফিরলেও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ৩টি করে চার-ছক্কায় কার্যকর ইনিংসই খেলেন বরিশাল অধিনায়ক।

তাওহিদ হৃদয় 

দল বদলালেও বিপিএলে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটের বিধ্বংসী রুপের কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত আসরে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে তিনি করেছিলেন ১৪০.৪১ স্ট্রাইক রেটে ৪০৩ রান। এবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জার্সিতে ছাপিয়ে গেছেন সেটি।  

ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিসহ ১৪ ইনিংসে ১৪৯.৫১ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন ৪৬২ রান। টুর্নামেন্টের শেষ দিন পর্যন্ত তামিম ইকবালের সঙ্গে সর্বোচ্চ রানের লড়াইয়ে ছিলেন তিনি। ফাইনালে স্রেফ ১৫ রান করে আউট হলেও কিছুক্ষণের জন্য এক নম্বরে ছিলেন তিনি। 

মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকে সিলেট থেকে এবার কুমিল্লায় নাম লেখান হৃদয়। ৪১ বলে ৪৭ রানে আসর শুরু করলেও প্রথম ছয় ম্যাচে পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। পরে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে ৫৭ বলে ১০৮ রানের ঝকঝকে ইনিংসে গা ঝারা দেন তিনি। 

এক ম্যাচ পর তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ বলে ৯১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৬৪ রানের চমৎকার ইনিংসে রান তাড়া সহজ করেন তিনি।  

সব মিলিয়ে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন হৃদয়। বিপিএলের এক আসরে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। সফল এই টুর্নামেন্টে তিনবার শূন্য রানেও আউট হন তিনি। চলতি আসরে এটিই সবচেয়ে বেশি শূন্য রানের রেকর্ড।

লিটন কুমার দাস 

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়কের এবারের বিপিএল ভাগ করা যায় দুই ভাগে- প্রথম পাঁচ ম্যাচ ও বাকিটা। টুর্নামেন্টের শুরুতে পাঁচ ম্যাচে একবারও বিশ ছুঁতে পারেননি লিটন কুমার দাস, ৭৫ স্ট্রাইক রেটে করেন স্রেফ ৩৭ রান। 

শুরুর ওই ব্যর্থতা ঝেড়ে পরের ৯ ম্যাচে ১৪১.৬০ স্ট্রাইক রেটে ৩৫৪ রান করেন স্টাইলিশ এই ওপেনার। সব মিলিয়ে ১৪ ইনিংসে ৩ ফিফটির সৌজন্যে তার সংগ্রহ ৩৯১ রান। সার্বিক স্ট্রাইক রেট ১৩০.৭৬। 

খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ষষ্ঠ ম্যাচে ৩০ বলে ৪৫ রান করে লিটনের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। এক ম্যাচ পর খেলেন ৩১ বলে ৬০ রানের ইনিংস। তার এক ম্যাচ পর সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষ তার ব্যাট থেকে আসে ক্যারিয়ার সেরা ৮৫ রানের ইনিংস। 

ফাইনালে ওঠার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৮৩ রান করেন কুমিল্লা অধিনায়ক। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তবে শিরোপার লড়াইয়ে হাসেনি লিটনের ব্যাট। ১২ বলে ১৬ রান করে ফেরেন তিনি। 

তানজিদ হাসান 

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে প্লে-অফে তোলার পথে বড় অবদান রাখেন তানজিদ হাসান। এক আসর পর আবার বিপিএল খেলার সুযোগ পেয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিও করেন তরুণ ওপেনার। 

সব মিলিয়ে ১২ ইনিংসে দুই ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে তানজিদ করেন ৩৮৪ রান। আসরে ২০ ছক্কা মারা ২৩ বছর বয়সী ওপেনার ১৩৫.৬৮ স্ট্রাইক রেটে করেন এই রান।

তৃতীয় ম্যাচে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন চট্টগ্রাম ওপেনার। এক ম্যাচ পর পান পঞ্চাশের দেখা। অষ্টম ম্যাচে ফের চল্লিশ পেরোন তিনি। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না। দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে ৭০ রানের ইনিংসে অনেকটাই ঘোচান সেই আক্ষেপ। 

পরের ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৮টি করে চার-ছক্কায় ৬৫ বলে ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন তানজিদ। এবারের বিপিএলে এটিই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস।  

মুশফিকুর রহিম 

বিপিএলে প্রথমবার শিরোপার স্বাদ পাওয়ার টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে বড় অবদান রেখেছেন মুশফিকুর রহিম। ১৫ ইনিংসে তিনি করেছেন ৩৮০ রান। পাশাপাশি উইকেটের পেছনে পেয়েছেন ১৮টি ডিসমিসাল। 

খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৯ বলে ৬৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন বরিশালের কিপার-ব্যাটসম্যান। পরের ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে করেন ৪৪ বলে ৬২ রান। 

এরপর কিছুটা ভাটার টান দেখা যায় তার ব্যাটে। টানা ছয় ম্যাচে ত্রিশ ছুঁতে পারেননি অভিজ্ঞ তারকা। সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ৩২ বলে ৫২ রানের ইনিংসে ছন্দে ফেরেন তিনি। পরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ৪৭ রানের দায়িত্ব ইনিংসে দল জেতান মুশফিক।