Published : 23 Feb 2026, 09:30 AM
ম্যাচ শেষ হতেই টিভি পর্দায় একটি ছবি ভেসে উঠল। মাঠের পাশেই মুখোমুখি বসে গভীর মনোযোগে কথা বলছেন ভারতের কৌচ গৌতাম গাম্ভির ও অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। পাশেই বসে বোলিং কোচ মর্নে মর্কেল। আলোচনার বিষয়বস্তু অনুমান করে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। টানা এক ডজন জয়ের পর যখন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হুট করে এত বড় পরাজয় আসে, এমন জরুরি বৈঠক প্রয়োজন হয় বটে!
সেই আলোচনার প্রতিফলন হয়তো পরের ম্যাচে পড়তে দেখা যাবে। তার আগে ভারতীয় অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ বললেন, এই ম্যাচের ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের লড়াইয়ে রোববার ভারতকে ৭৬ রানে হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
গত বিশ্বকাপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলটি বিশ্ব আসরে টানা ১২ ম্যাচ হারার পর পরাজয়ের স্বাদ পেল।
অথচ টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জাসপ্রিত বুমরাজ ও আর্শদিপ সিংয়ের দারুণ বোলিংয়ে কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটন বিদায় নেন দ্রুতই। চার ওভার শেষে প্রোটিয়াদের রান ছিল ৩ উইকেটে ২০।
সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই চমকপ্রদ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ডেভিড মিলার (৩৫ বলে ৬৩) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২৯ বলে ৪৫)। পরে ভারত আবার একটু ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবসের (২৪ বলে ৪৪) ঝড়ে ২০ ওভারে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সেই রান তাড়ায় ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়ে পাওয়ার প্লেতেই। শূন্য রানে ফেরেন ইশান কিষান, এক রানে তিলাক ভার্মা। টানা তিন শূন্যের পর এবার প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন আভিশেক শার্মা। কিন্তু ফর্মে ফেরা হয়নি তার (১২ বলে ১৫)।
পাঁচ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলা দল পরে আর ঘুরে দাঁড়ানো পারেনি। সুরিয়াকুমার নিজে ২২ বল খেলে করতে পারেন মোটে ১৮ রান। ম্যাচ শেষের অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের হার।
দলের বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে অভিযোগ নেই সুরিয়াকুমারের। ম্যাচের পর ভারতীয় অধিনায়ক বললেন, ম্যাচ হেরে গেছেন তারা পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ে।
“খেলা যখন শুরু হয়েছিল, আমরা ম্যাচে ছিলাম ভালোভাবেই। শুরুতে আমরা দারুণ বোলিং করেছি। ওদের রান ছিল ৩ উইকেটে ২০। ৭ থেকে ১৫ ওভার পর্যন্ত ওরা দুর্দান্ত ব্যাট করেছে। পরে আবার আমরা ভালোভাবে ফিরে এসেছি। সব মিলিয়ে বোলিং আমরা ভালোই করেছি, তবে ব্যাটিং আরেকটু ভালো করতে পারতাম।”
“কখনও কখনও ১৮০-১৮৫ রান তাড়ায় মাথায় রাখতে হবে যে, পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ জেতা যাবে না, তবে পাওয়ার প্লেতেই হেরে যেতে পারি। পাওয়ার প্লেতে আমরা অনেক বেশি উইকেট হারিয়ে এবং এরপর ছোট ছোট যে জুটিগুলো প্রয়োজন ছিল, আমরা তা গড়তে পারিনি। আমরা এখান থেকে শিখব, চিন্তা করব এবং শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াব।”
পরের ম্যাচে চেন্নাইয়ে ভারতের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। সুপার এইটের সমীকরণ এমনই যে, পরের দুটি ম্যাচ জিতলেও তা যথেষ্ট নাও হতে পারে সেমি-ফাইনালে ওঠার জন্য। রান রেটের সমীকরণ চলে আসতে পারে।
সামনের পথটা কঠিন। সুরিয়াকুমার বললেন, সাফল্যের চেনা ধরনকে আঁকড়ে ধরেই সেই পথ ধরে এগোতে চান তারা।
“আশা করি, ব্যাটিং ভালো করব, বোলিং ভালো করব, ফিল্ডিং ভালো করব। এই তো! চেষ্টা করব সবকিছু সাধারণ রাখতে, যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট আমরা খেলে আসছি, সেটাই ধরে রাখতে, কিছুই যাতে না বদলায়। আমার মনে হয়, আমরা শক্তভাবেই ফিরে আসব।”