Published : 12 Feb 2026, 11:23 PM
ব্যাটিং তাণ্ডবে সুর বেঁধে দিলেন ইশান কিষান। ঝড়ো ফিফটিতে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। পরে বল হাতেও আলো ছড়ালেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। চমৎকার বোলিং করলেন স্পিনাররাও। নামিবিয়াকে উড়িয়ে রেকর্ড ব্যবধান জিতল ভারত।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ভারতের জয় ৯৩ রানে।
বিশ্ব আসরে রানের হিসাবে তাদের সবচেয়ে বড় জয় এটি। ২০১২ আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯০ রানে জয় ছিল আগের রেকর্ড।
দিল্লিতে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে ভারত তোলে ২০৯ রান। জবাবে দশম ওভারে ২ উইকেটে ৮৬ রানের শক্ত অবস্থানে থেকে পথ হারিয়ে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়া।
চলতি আসরে দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ জিতল গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। টানা আটটির বেশি জয় নেই আর কারো।
পাঁচ নম্বরে নেমে চারটি করে চার ও ছক্কায় ২৮ বলে ৫২ রান করার পর, ২১ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা পান্ডিয়া।
ছয় চার ও পাঁচ ছক্কায় ২৪ বলে ৬১ রান করেন ওপেনার কিষান।
৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার রহস্য স্পিনার ভারুন চক্রবর্তি।
ভারতের সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত। ৭ ওভারে তাদের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১০৪। মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোয় কমে যায় রানের গতি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। হাসপাতাল থেকে ফেরা আভিশেক শার্মা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় তার জায়গায় সুযোগ পাওয়া সাঞ্জু স্যামসন ছক্কা মারেন প্রথম ওভারে। পরের ওভারে টানা তিন বলে দুই ছক্কা ও একটি চারের পর আউট হয়ে যান তিনি (৮ বলে ২২)।
এরপর শুরু হয় কিষানের তাণ্ডব। জেজে স্মিটকে পরপর দুটি চারে ডানা মেলে দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে স্মিটকে টানা চারটি ছক্কার পর চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি ২০ বলে।
ভারত একশ ছুঁয়ে ফেলে ৬.৫ ওভারেই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম দলীয় শতক এটি। ২০১৪ আসরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ ওভারে একশ ছুঁয়ে আগের রেকর্ড ছিল নেদারল্যান্ডসের।
অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসেই কিষানের ঝড় থামান নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাজমাস। থামে ৩১ বলে ৭৯ রানের বিস্ফোরক জুটি।
একটি ছক্কা মেরে বিদায় নেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ (১৩ বলে ১২)। ১৯ রানে জীবন পেয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি তিলাক ভার্মা (২১ বলে ২৫)।
২০ রানের মধ্যে ওই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। সেখানে থেকে পঞ্চম উইকেটে ৩৯ বলে ৮১ রানের জুটিতে দলের স্কোর দুইশ পার করেন পান্ডিয়া ও শিভাম দুবে।
শেষদিকে যদিও প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেনি ভারত। শেষ দুই ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা তুলতে পারে কেবল ১০ রান। একটি করে চার ও ছক্কায় ১৬ বলে ২৩ রান করেন দুবে।
২০ রানে ৪ উইকেট নেন ইরাজমাস। বিশ্বকাপে কোনো অধিনায়কের যৌথভাবে দ্বিতীয় সেরা বোলিং এটি। ২০২৪ আসরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের রাশিদ খানের ১৭ রানে ৪ উইকেট আছে এখানে সবার ওপরে।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক ও লরেন স্টিনক্যাম্পের ব্যাটে শুরুটা ভালো করে নামিবিয়া। ১৫ বলে ২২ রান করে বিদায় নেন ফ্রাইলিঙ্ক। নিজের প্রথম বলে স্টিনক্যাম্পকে (২০ বলে ২৯) ফেরান ভারুন।
৯ ওভারে নামিবিয়ার স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৮৫। কিন্তু ভারুন নিজের পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে নিকোল লফটি-ইটন ও জেজে স্মিটকে ফিরিয়ে চিত্র পাল্টে দেন।
এরপর নিয়মিত উইকেট হারায় নামিবিয়া। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি পান্ডিয়া।
অসুস্থতার কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারা জাসপ্রিত বুমরাহ এই ম্যাচে ফিরে ২০ রানে নেন একটি উইকেট। ২০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন আকসার প্যাটেল।
ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দাপুটে পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতিটাও দারুণ হলো ভারতের। আগামী রোববার কলম্বোয় চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে তারা।
প্রথম দুই ম্যাচে হারা নামিবিয়া পরের ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২০৯/৯ (কিষান ৬১, স্যামসন ২২, তিলাক ২৫, সুরিয়াকুমার ১২, পান্ডিয়া ৫২, দুবে ২৩, রিঙ্কু ১, আকসার ০, ভারুন ১*, আর্শদিপ ২; ট্রাম্পেলমান ৪-০-৩৮-০, শিকঙ্গো ৩-০-৪১-১, স্মিট ৪-০-৫০-১, হেইঙ্গো ১-০-১৮-০, ইরাজমাস ৪-০-২০-৪, শুলজ ৪-০-৪১-১)
নামিবিয়া: ১৮.২ ওভারে ১১৬ (স্টিনক্যাম্প ২৯, ফ্রাইলিঙ্ক ২২, লফটি-ইটন ১৩, ইরাজমাস ১৮, স্মিট ০, গ্রিন ১১, ক্রুগার ৫, ট্রাম্পেলমান ৬, শুলজ ৪, শিকঙ্গো ০, হেইঙ্গো ০; পান্ডিয়া ৪-০-২১-২, আর্শদিপ ৩-০-৩৬-১, দুবে ২.২-০-১১-১, বুমরাহ ৪-০-২০-১, ভারুন ২-০-৭-৩, আকসার ৩-১-২০-২)
ফল: ভারত ৯৩ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: হার্দিক পান্ডিয়া