Published : 02 Mar 2026, 06:31 PM
১৯৫ রান অবশ্যই বড় সংগ্রহ। তবে প্রতিপক্ষ যখন ভারত, যাদের রয়েছে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপ, তখন লক্ষ্য ছুঁড়তে হবে আরও বড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এখানেই ঘাটতি দেখছেন ফাফ দু প্লেসি। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়কের মতে, বিস্ফোরক সব ব্যাটসম্যানে ঠাসা ক্যারিবিয়ানদের দুইশ ছাড়ানো পুঁজি গড়া উচিত ছিল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ভারতকে দুইশর কম লক্ষ্য দিয়ে জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কলকাতায় রোববার তাদের ১৯৫ রান ৪ বল বাকি থাকতে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
সুপার এইটের ম্যাচ ছিল কার্যত সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াই। সেখানে পেরে ওঠেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদেরকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় শিরোপাধারীরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারালেও বড় রান করতে পারেনি। প্রথম ছয় ওভারে স্রেফ ৪৫ রান করতে পারে তারা। যেখানে বেশিরভাগ রানই করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার ওপেন করতে নামা রোস্টন চেইস। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক শেই হোপ ছিলেন নিষ্প্রভ। অস্বস্তি ও জড়তাময় ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন তিনি।
ক্রিজে গিয়ে পরের রানের গতিতে দম দেন শিমরন হেটমায়ার, রভম্যান পাওয়েল, জেসন হোল্ডাররা। পরের ১৪ ওভারে ১৫০ রান তোলে তারা। ইনিংস বিরতিতে পাওয়েল বলেন, ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে ও ছোট সীমানার মাঠে রান অন্তত ১০-১৫ কম মনে হচ্ছে তার কাছে।
শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। ম্যাচ শেষ ওভারে গড়ালেও ভারতকে থামাতে পারেননি তারা। সাঞ্জু স্যামসনের স্মরণীয় অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
ভারতের বোলিংয়ের তুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণ কিছুটা কম শক্তির। ইএসপিএনক্রিকইনফো টাইমআউট-এ দু প্লেসি বলেন, নিজেদের দুর্বলতা জানা সত্ত্বেও শক্তির জায়গা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা।
“ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে তাকালে, আমরা তাদের বোলিং বিভাগে কিছুটা ঘাটতি থাকার কথা বলি। তাই, তারা যদি জানে দল হিসেবে তাদের কোথায় কমতি আছে… তাদের বোলিং আক্রমণ খারাপ নয়, এখানে স্রেফ ভারতের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।”
“যখন আপনার শক্তির জায়গা ব্যাটিং, আপনি জানেন ব্যাটিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এই অবস্থায় যখন দলের আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে, তখন আপনাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বকাপ জিততে চাইলে এটা অনেকটা আপোষহীন শর্তের মতো। তাদেরকে ২২০-২৩০ রান করতে হতো, যাতে বোলিং বিভাগ আরও চাপ তৈরি করতে পারে।”
দু প্লেসির মতে, ভারতকে হারাতে হলে আরও ভালো খেলতে হবে।
“তারা যদি ‘ভালো’ সংগ্রহে আটকে যায়, তাহলে ম্যাচ সবসময়ই হাড্ডাহাড্ডি হবে… আবারও বলছি, তারা ভালো ব্যাটিং করেছে, কিন্তু ভারতকে হারাতে হলে আপনাকে আরও ভালো করতে হবে।”
ভারতের সাবেক কোচ ও কিংবদন্তি স্পিনার আনিল কুম্বলেও একই সুরে কথা বলেন। তার মতে, আরও চড়াও হয়ে খেলা উচিত ছিল ক্যারিবিয়ানদের।
“আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি, টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং করলে সব শক্তি ব্যবহার করতে হবে, ব্যাটিং লাইন-আপে কে আছে, সেটার দিকে না তাকিয়ে। ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের চেয়ে ৯ উইকেটে ১৯৬ রান অনেক ভালো। আমি মানছি, পাওয়ার প্লে অধিনায়কের (শেই হোপ) মনের মতো হয়নি; সে কিছুটা সংগ্রাম করছিল, কিন্তু দলের রান রেট বেশ ভালোই ছিল।”
“এর চেয়েও বড় ব্যাপার, যখন জানেন পাওয়ার প্লে শেষেও হাতে দশ উইকেট আছে, বাকি মাত্র ১৪ ওভার, আর উপরে বিধ্বংসী সব ব্যাটসম্যানরা অপেক্ষায়, তখন আরও চড়াও হয়ে খেলতে হবে, এমনকি যদি তাতে দুয়েকটি উইকেটও হারাতে হয়।”