Published : 23 Feb 2026, 10:03 AM
‘কিলার মিলার’ নাম পেয়ে গেছেন তিনি অনেক আগেই। তবে এ দিনের পরিস্থিতি ঠিক ম্যাচটি ‘কিল’ করার মতো ছিল না। তিনি যখন ক্রিজে গেলেন, ৪ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৩ উইকেটে ২০। তবে সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই নামের মতোই খুনে হয়ে উঠলেন ডেভিড মিলার। দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণে ঘুরিয়ে দিলের ম্যাচের মোড়। ম্যাচের ভাগ্যও গড়া হয়ে গেল সেখানেই। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান পরে বললেন, এমন কিছুই ছিল তার পরিকল্পনা।
আহমেদাবাদে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ৩ ব্যাটারকে হারিয়ে বসে ৪ ওভারের মধ্যেই। মিলার ক্রিজে যাওয়ার পরপরই বাউন্ডারি পান ব্যাটের কানায় লেগে। পরের বলেই দারুণ শটে চার মেরে তিনি বুঝিয়ে দেন, ভড়কে যাননি। পরের ওভারে দুটি চার মারেন তিনি আর্শদিপ সিংকে।
পাল্টা আক্রমণের সেই ধারা চলতে থাকে। যোগ্য সঙ্গী পেয়ে যান তিনি ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে। পাওয়ার প্লে শেষেও দুজনে পাওয়ার ব্যাটিং চলতে থাকে। প্রথম ৪ ওভারে ২০ রান তোলা দল পরের ৮ ওভারে তোলে ৯১ রান!
২৯ বলে ৪৫ রান করে ব্রেভিসের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। ৫১ বলে ৯৭ রানের এই বন্ধনই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
মিলার আরও এগিয়ে শেষ পর্যন্ত আউট হন ৩৫ বলে ৬৩ রান করে। পরে ভারত আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্টো করলেও ট্রিস্টান স্টাবসের ২৪ বলে ৪৪ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ১৮৭ রানের পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। পরে বোলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভারতকে স্রেফ ১১১ রানেই গুটিয়ে দিয়ে দারুণ এক জয় পায় গত বিশ্বকাপের রানার্স আপরা।
ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে মিলার বললেন, চাপের মধ্যে ক্রিজে গেলেও মাথা নুইয়ে রাখতে চাননি তিনি।
“স্রেফ নিশ্চিত করতে চেয়েছি যেন নিজের শক্তির জায়গায় অটল থাকতে পারি এবং খোলসে না ঢুকে পড়ি। পাওয়ার প্লের ভেতর সব ফিল্ডার তো বৃত্তের ভেতরই। তাই চেয়েছি তাদের ওপর দিয়ে বল পাঠাতে। চেষ্টা করেছি জুটি গড়ে তুলতে, প্রান্ত বদল করতে এবং নিজের জোনে বল পেলে কাজে লাগাতে।”
মিলার ও ব্রেভিসের ব্যাটিংয়ের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, স্পিন বোলিংয়ে পাল্টা আক্রমণ। ভারুন চক্রবর্তি এমনিতে বেশ ক্ষুরধার স্পিনার। তার বলে দ্রুত রান তোলা বেশ কঠিন। খুব খরুচে দেখা যায় তাকে খুব কম দিনই। সেই ভারুনকেই তুলাধুনা করে ছাড়েন দুজন। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৪৭ রান দেন এই স্পিনার।
মিলার বললেন, পরিকল্পনা করেই স্পিনের সামনে আগ্রাসী ছিলেন তারা।
“আমাদের ভাবনা ছিল, ভারতীয় স্পিনারদের সামনে আগ্রাসী হওয়ার। বিশ্বমানের সব বোলার আছে তাদের। আমরা অনেক খেলেছি তাদের বিপক্ষে। চেয়েছি তাদেরকে চাপে ফেলতে এবং নিজেরা যেন এমন জায়গায় যেতে পারি যে, কাজটা ঠিকঠাক করতে পারি। আজকে আমরা পেরেছি ভালোভাবে।”