Published : 28 Feb 2026, 01:02 PM
বিশ্বকাপ এখন শেষের কাছাকাছি। অথচ ইংল্যান্ড এখনও ব্যাটে-বলে পরিপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিতে পারল না। ধরা দিল না একটিও দাপুটে জয়। টুকটাক আলোচনা চলছে এটা নিয়ে। তবে সেরা খেলা না খেলেই সবার আগে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে এই দল, সুপার এইটে হয়েছে গ্রুপের সেরা। উইল জ্যাকস তাই বলছেন, ধরন যেমনই হোক, জিতলেই তো হলো!
সুপার এইটে নিউ জিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শুক্রবার গ্রুপের সেরা হওয়া নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। কলম্বোতে একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, হারতেই হবে বুঝি ইংলিশদের। তবে শেষের ঝড়ে ৩ ওভারে ৪৩ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ফেলে তারা ৩ বল বাকি রেখেই।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নাটকীয়তার ভেলায় ছুটে চলেছে ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে প্রায় হারতেই বসেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয় ৪ রানে। পরের ম্যাচে হেরেই বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে।
এরপর গ্রুপ পর্বের বাকি ২টি ও সুপার এইটের ৩ ম্যাচ টানা জিতেছে হ্যারি ব্রুকের দল। কিন্তু কোনো ম্যাচেই পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স মেলে ধরতে পারেননি তারা। কখনও ব্যাটে, কখনও বলে ঘাটতি বা খামতি রয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের ৪টি জয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন উইল জ্যাকস। কার্যকর বোলিংয়ের পাশাপাশি সাতে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে এতবার সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। সেখানেও কিছুটা ফুটে উঠছে দলের চিত্র। লোয়ার-মিডল অর্ডারে যদি ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাট হাতে এমন অবদান রাখতে হয়, তাহলে তো বুঝতেই হয় ওপরের তিকে সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছে না।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর জ্যাকসের কাছে তাই প্রশ্ন ছুটে গেল, ‘পারফেক্ট ম্যাচটি কি খেলা জরুরি?’ এই অলরাউন্ডারের ঝটপট উত্তর, ‘মোটেও না!’
পরে ব্যাখাও দিলেন এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
“৭ ম্যাচের ৬টিই জিতেছি আমরা। সেমি-ফাইনালে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছি। দিন শেষে তাই ওসবের (পারফেক্ট ম্যাচ) পরোয়া নেই কারও। অবশ্যই আমরা মাঠে নেমে ভালো খেলতে চাই। তবে পারফেক্ট ম্যাচ খেলতে না পারার হতাশাও নেই, কারণ আমরা তো জিতেই চলেছি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এরকমই, এটিই পেশাদার ক্রীড়া। এভাবে টানা জিততে পারাও ভীষণ কঠিন।”
জ্যাকসের মতে, ম্যাচের আসল সময়গুলো ভালোভাবে সামলাতে পারাই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।
“আমরা শক্ত সব প্রতিদ্বন্দ্বির সঙ্গে লড়ছি, যারা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। তারাও জানে তারা কী করতে চায় এবং পারফেক্ট ম্যাচ তারাও খেলতে চায়। কাজেই সেরকম হওয়ার সুযোগ খুব সামান্য। আমরা যা ভালো করেছি, তা হলো, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থির থেকেছি, স্বচ্ছ থেকেছি এবং ওই মুহূর্তগুলো ভালোভাবে সামলেছি।”
সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একটি নমুনাও তুলে ধরলেন জ্যাকস। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যখন ২.৫ ওভারে প্রয়োজন ৪২ রান, গ্লেন ফিলিপসের বলে রেহান আহমেদের ছক্কার পর ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ওই ওভারে পরে ছক্কার পাশাপাশি দুটি চার মারেন জ্যাকস। ওভার থেকে ২২ রান নিয়ে সমীকরণ নাগালে নিয়ে আসে ইংল্যান্ড।
জ্যাকস বললেন, রেহানের ছক্কাই বদলে দিয়েছে পুরো আবহ।।
“রেহান যে শটটি খেলল, দ্বিতীয় বলেই ছক্কা, সেটি আমাকেও প্রাণশক্তি জুগিয়েছে। তখনই আমার মনে হয়েছে, আমাদের সুযোগ আছে। এরপর ওভারটি আমি শেষ করলাম, ছক্কা, চার ও চার দিয়ে এবং আমরা ছুটতে থাকলাম।”
“এই ছোট মুহূর্তগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ… শুধু রান নয়, যেভাবে সেই রানগুলি আসে… ওরকম সময়ে একটি বিশাল ছক্কা মারা এবং বোলারকে দেখিয়ে দেওয়া যে, আমরাও এখানে আছি এবং এই লড়াই জিততে পারি। এসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ওই মুহূর্ত (রেহানের ছক্কা) থেকেই আমাদের মানসিকতা বদলে গিয়েছে।”