Published : 18 Feb 2026, 03:39 PM
সেই তো ডাকা হলো স্টিভেন স্মিথকে, তাহলে টুর্নামেন্টের শুরুতে কেন নয়? মাইকেল ভন এখনও খুঁজে ফিরছেন এই প্রশ্নের উত্তর। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কের মতে, ছন্দে থাকা স্মিথকে বিশ্বকাপের শুরু থেকে না খেলিয়ে বড় ভুল করেছে অস্ট্রেলিয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্মিথকে দলে যোগ করে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে অধিনায়ক মিচেল মার্শের ‘কাভার হিসেবে’ শ্রীলঙ্কায় দলের সঙ্গে যোগ দেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। পরে ছিটকে পড়া জশ হেইজেলউডের বদলি হিসেবে মূল স্কোয়াডে জায়গা পান তিনি।
কুঁচকির চোটে ভুগছিলেন মার্শ। দলের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তবে এখন সেরে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়া ওপেনার, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচেও খেলেছেন তিনি।
স্মিথকে দলে যোগ করার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ছিলেন না একাদশে। জিম্বাবুয়ের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হেরে যায় ২০২১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ডের মঙ্গলবারের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে টি-টোয়েন্টিতে দেখা যায়নি স্মিথকে। বিশ্বকাপে তিনি সবশেষ খেলেছেন ২০২২ আসরে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার রেকর্ডও খুব সমৃদ্ধ নয়। ৬৭ ম্যাচ খেলে তিনি ১ হাজার ৯৪ রান করেছেন ২৪.৮৬ গড় ও ১২৫.৪৫ স্ট্রাইক রেটে। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আলোচনায় আছেন মূলত বিগ ব্যাশের অসাধারণ পারফরম্যান্সে।
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ছয় ইনিংসে ৫৯.৮০ গড়ে ২৯৯ রান করেন তিনি ১৬৭.৯৭ স্ট্রাইক-রেটে। কিন্তু বিশ্বকাপ দলে শুরুতে জায়গা পেতে তার এই পারফরম্যান্স যথেষ্ট হয়নি।
ভনের মনে হচ্ছে, স্মিথ থাকলে দল হিসেবে আরও ভালো করতে পারত অস্ট্রেলিয়া। তাই বিশ্বকাপের প্রথম থেকে তাকে খেলানো উচিত ছিল বলে মনে করছেন তিনি।
“তাকে (স্মিথ) দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে, কারণ তারা (অস্ট্রেলিয়া) বাদ পড়ে গেছে। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতে সে কেন দলে ছিল না, এটা আমি বুঝতে পারছি না। বিগ ব্যাশে সে যেভাবে খেলেছে, যে কৌশলে স্পিন সামলেছে, অবশ্যই সে গতিময় বলও মারতে পারে। আমার মনে হয় স্মিথকে দলে না নিয়ে বড় ভুল করেছে অস্ট্রেলিয়া।”
পাঁচ বছর আগে নিজেদের প্রথম ও একমাত্র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এই সংস্করণের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। এই তিনটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলতে পারেনি তারা। এবার তো বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
অস্ট্রেলিয়া সাবেক স্পিনার ব্র্যাড হগ বললেন, “সম্ভবত যেটা আমাদের প্রাপ্য এই মুহূর্তে আমরা সেটাই পেয়েছি।”
এবারের বিশ্বকাপে চোটের কারণে অভিজ্ঞ পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হেইজেলউডকে পায়নি অস্ট্রেলিয়া। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলে দিয়েছেন আরেক তারকা পেসার মিচেল মার্শ।
তাদের অনুপস্থিতিতে দলের বোলিং বিভাগের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন হগ। তার মতে, এই জায়গায় নজর দেওয়া উচিত সংশ্লিষ্টদের।
“বোলিংয়ের গভীরতা আমাদের নেই, এটাই এখানে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তাদেরকে বোলিংয়ের গভীরতার দিকে নজর দিতে হবে…আমাদের পরের প্রজন্ম কেমন হবে?”
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শুক্রবার ওমানের বিপক্ষে খেলবে অস্ট্রেলিয়া।