Published : 02 Mar 2026, 09:54 PM
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে তুলে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন সাঞ্জু স্যামসন। এই ওপেনারের সাদা বলের দুই সংস্করণেই জাতীয় দলে নিয়মিত থাকা উচিত বলে মনে করেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক বোর্ড প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি।
এই বিশ্বকাপে একাদশে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন স্যামসন। সেই তিনিই রোববার কলকাতায় কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলে জিতিয়ে দেন ভারতকে।
ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি সৌরভ ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে আলাপে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন স্যামসনের।
“অসাধারণ। খুব ভালো খেলোয়াড় সে। সাদা বলে ভারতের হয়ে নিয়মিত খেলা উচিত ওর।”
এই ম্যাচের আগে চলতি আসরে দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে আক্রমণাত্মক শুরু করে অল্প রানে আউট হয়েছিলেন স্যামসন। এবার ১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন তিনি, যা মনে ধরেছে সৌরভের।
“সবাই জানে, যখন সে মাঠে নামবে, তখন প্রতিপক্ষকে আঘাত করবে। সে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলেছে, যা গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খুব বাজে কাটে স্যামসনের। নিজে ফর্ম হারিয়ে আর ইশান কিষানের দারুণ ফর্ম মিলিয়ে একাদশে জায়গা হারিয়ে ফেলেন ৩১ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটসম্যান। তাকে নিয়ে সমালোচনাও হয় অনেক।
এখন স্যামসন সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিতে পেরেছেন বলেই মনে করেন সাবেক ব্যাটসম্যান সৌরভ।
“এটা আমাদের সবাইকে যা শেখাল, এই ছেলেই যাকে গত ছয় মাসে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যে দলে জায়গা পায়নি, হয় ইশান কিষান ওপেনিংয়ে খেলছিল, নয়তো অন্য কেউ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আমি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দেখছিলাম, সেখানে বলা হয়েছিল, সাঞ্জু আবার ব্যর্থ, সে দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য নয়, ভারতের এত প্রতিভা আছে, শুবমান গিল কেন দলে নেই। আর এখন, সেই ছেলেটা কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচে ৯৭ রান করে দলকে সেমি-ফাইনালে নিয়ে গেল।”
আইপিএলের নিয়মিত মুখ স্যামসন ভারতের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৬টি ওয়ানডে ও ৬০টি টি-টোয়েন্টি।
২০১৫ সালের জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। কিন্তু বাদ পড়ে যান একটি ম্যাচ খেলেই। দেশের জার্সিতে পরের ম্যাচটি খেলতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় আরও সাড়ে চার বছর। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ফেরার পরও তাকে দলে আসা যাওয়া করতে হয়েছে বারবার।
তার ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০২১ সালে। এখানেও খুব নিয়মিত নন তিনি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সবশেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করলেও এরপর আর সুযোগ পাননি।